আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রয়াগরাজের মৌআইমা এলাকায় ঘটে যাওয়া একটি নৃশংস অপরাধ, যা প্রথমে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ধাঁধায় ফেলে দিয়েছিল, তা এখন এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। নিজের দেওরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ এবং তাঁর গোপনাঙ্গ শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করার পর এই ঘটনার পেছনের প্রতিশোধ ও পারিবারিক অশান্তির বিমর্ষ কাহিনী সামনে এসেছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৬ই অক্টোবর রাতে, যখন মৌআইমার মালখানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাম আসারের ২০ বছর বয়সী ছেলে উমেশকে তাঁর নিজের ঘরে রক্তাক্ত অবস্থায় কাতরাতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁর চিৎকার শুনে বাড়ির সবাই যখন ছুটে যান, তখন দেখা যায় উমেশের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন এবং তাঁর গোপনাঙ্গ নৃশংসভাবে কেটে ফেলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং 'অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী'-র বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তের শুরুতে বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যময় ছিল, কারণ পরিবারের ছোট ছেলের ওপর এমন আক্রোশ কার থাকতে পারে, তা কেউ বুঝে উঠতে পারছিলেন না।
তবে পুলিশি তদন্ত যতই এগোতে থাকে, পরিবারের ভেতরের জটিল সম্পর্কের জাল ততই স্পষ্ট হতে শুরু করে। জানা যায়, উমেশের বড় ভাই উদয়ের স্ত্রী মঞ্জুর ছোট বোনের সঙ্গে উমেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তাঁরা দুজনে একে অপরকে বিয়ের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিয়েতে ঘোর আপত্তি তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত পারিবারিক চাপের মুখে উমেশ সেই সম্পর্ক থেকে সরে আসেন এবং অন্য এক মহিলার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এই প্রত্যাখ্যান মেনে নিতে পারেননি মঞ্জুর ছোট বোন। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজেকে ঘরবন্দী করে ফেলেন। নিজের বোনের এই শোচনীয় দশা দেখে মঞ্জুর মনে উমেশের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও ক্রোধ জন্মায়। পুলিশের ধারণা, বোনের কষ্টের প্রতিশোধ নিতেই মঞ্জু এই ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা করেন। গত ১৬ই অক্টোবর মাঝরাতে বাড়ির সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন মঞ্জু রান্নাঘর থেকে একটি ধারালো ছুরি নিয়ে উমেশের ঘরে ঢোকেন এবং ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।
আক্রমণের পর উমেশের আর্তনাদে বাড়ির লোকজন জেগে যাওয়ার আগেই মঞ্জু সেখান থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ যখন পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন মঞ্জুর বয়ানে একাধিক অসংগতি ধরা পড়ে। এসিপি বিবেক কুমার যাদব জানিয়েছেন, তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে যে মঞ্জুই সরাসরি এই আক্রমণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বোনের জীবন নষ্ট করার প্রতিশোধ নিতেই তিনি এই জঘন্য কাজ করেছেন। বর্তমানে পুলিশ মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর উমেশের অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে চিকিৎসক গিরিশ মিশ্রের মতে, এই গভীর ক্ষত কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে উমেশের আরও অন্তত সাত থেকে আট মাস সময় লাগবে।
















