আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে এক মর্মান্তিক এবং শিউরে ওঠার মতো পারিবারিক হিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে এক ব্যক্তি রাগের মাথায় নিজের স্ত্রীর নাক ও গাল কামড়ে খুবলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হামলায় গৃহবধূ মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন এবং তাঁর মুখমণ্ডলের চেহারায় কার্যত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। অভিযুক্ত স্বামী বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পলাতক।

হামিরপুরের পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে, আক্রান্ত গৃহবধূর নাম পানা। গত কয়েক বছর ধরেই অভিযুক্ত স্বামী ফুলের সঙ্গে তাঁর দাম্পত্য জীবন চলছিল। কিন্তু পানা দেবীর ভাইয়ের বয়ান অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরেই তাঁদের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে অশান্তি লেগে থাকত। ঘটনার দিন রাতে সেই বিবাদই চরমে পৌঁছায়। রাগের মাথায় ফুল তাঁর স্ত্রীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং আক্ষরিক অর্থেই পানা দেবীর নাকে ও গালে কামড় দিতে শুরু করেন। আঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে তাঁর নাকের মাংসের একাংশ ছিঁড়ে আলাদা হয়ে যায় এবং গালে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়।

রক্তাক্ত অবস্থায় পানা দেবীকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর মুখের ক্ষতস্থানে অন্তত দশটি সেলাই দিয়েছেন। তবে চোট অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় এবং নাকের গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঝাঁসি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পানা দেবীর স্বাভাবিক মুখশ্রী ফিরিয়ে আনার জন্য প্লাস্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে তিনি কড়া পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্ত মহিলার ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন যে, অভিযুক্ত ফুল ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন এবং তাঁকে ধরার জন্য তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার পেছনে পুরনো কোনও ঘরোয়া অশান্তি বা নিয়মিত নির্যাতনের ইতিহাস ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একজন স্বামী কীভাবে নিজের স্ত্রীর ওপর এতটা পাশবিক আক্রমণ চালাতে পারেন, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঠিক পারিপার্শ্বিক তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে।