আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ জেলা থেকে এক মর্মস্পর্শী ও বিরল সাহসিকতার খবর সামনে এসেছে, যেখানে এক মা তাঁর নিজের ছেলের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভিঠাউলি থানা এলাকার একটি গ্রামে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক তার নিজের খুড়তুত বোনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে, যার ফলে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিযুক্তের মা বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে নিজের সন্তানের চেয়ে ন্যায়বিচার এবং মানবিকতাকে বড় করে দেখেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরীর মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে তার পিসির বাড়িতেই বড় হচ্ছিল। তার বাবার কিছু 'বাজে অভ্যাস' থাকায় পিসিই তাকে নিজের সন্তানের মতো আগলে বড় করে তুলেছিলেন। কিন্তু সেই আশ্রয়েই যে তাকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ওই যুবক ছলে-বলে কিশোরীটির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি গোপন থাকলেও সম্প্রতি মেয়েটি যখন বুঝতে পারে সে অন্তঃসত্ত্বা, তখনই সে তার পিসিকে সব কথা খুলে বলে।

নিজের পালিতা কন্যার মুখে এই ভয়াবহ কাহিনী শোনার পর স্তম্ভিত হয়ে যান ওই মহিলা। একদিকে নিজের জন্ম দেওয়া সন্তান, অন্যদিকে মাতৃহীন ভ্রাতুষ্পুত্রী— এই দুইয়ের মধ্যে তিনি ন্যায়ের পথটিকেই বেছে নেন। তিনি সরাসরি থানায় গিয়ে নিজের ছেলের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ দায়ের করেন। এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা, কারণ সাধারণত সামাজিক লজ্জা বা পরিবারের সম্মান রক্ষার দোহাই দিয়ে এই ধরণের ঘটনা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশ এই ঘটনার ভিত্তিতে অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই সে পলাতক। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, অভিযুক্তকে ধরার জন্য সবরকম তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং কিশোরীটির যাবতীয় শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিজের বাড়িতেই বিশ্বাসের মর্যাদা হারিয়ে যে কিশোরী আজ বিপন্ন, তার পিসির এই লড়াই তাকে বিচার পাওয়ার পথে সাহস জোগাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।