আজকাল ওয়েবডেস্ক: তিন দিন আগেই খারিজ করা হয়েছিল জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ)-এর প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদের অন্তর্বর্তী জামিন। সেই আবেদন ফের পুনর্বিবেচনা করে শেষমেশ অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করল দিল্লি হাইকোর্ট। তিন দিনের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হল এই ছাত্রনেতা।

 

গত ১৯ মে দিল্লির উমর খালিদের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করেছিল দিল্লির একটি আদালত। অসুস্থ মায়ের দেখাশোনা এবং কাকার শ্রাদ্ধের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য জামিন চেয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার দিল্লির করকরডুমা আদালতের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সমীর বাজপেয়ী এই আর্জি নাকচ করে দেন। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ২২ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন উমর। তবে শুক্রবার ১ থেকে ৩ জুন পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন দিল্লি হাইকোর্ট।

 

হাইকোর্ট জামিনের আবেদনের খালিদ জানান, তাঁর প্রয়াত কাকার 'চেহলাম' (মৃত্যুর পর চল্লিশ দিনের অনুষ্ঠান) অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চান তিনি। পাশাপাশি, ২ জুন তাঁর ৬২ বছর বয়সী মায়ের পিঠের একটি টিউমার অস্ত্রোপচারের (ল্যাম্প এক্সিশন সার্জারি) সময়েও উপস্থিত থাকতে চান তিনি। যদিও নিম্ন আদালত আগে মন্তব্য করেছিল যে, কাকা কোনও নিকট আত্মীয় নন। তা ছাড়া, মায়ের দেখভালের জন্য পরিবারে অন্য সদস্যও রয়েছেন। এই পর্যবেক্ষণকেই 'ভুল এবং ভিত্তিহীন' দাবি করে হাইকোর্টে যান খালিদ। জানান, প্রয়াত কাকার সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত নিবিড় সম্পর্ক ছিল। শোকগ্রস্ত সময়ে তাঁর ৮৭ বছর বয়সী দিদার পাশে থাকতে চান তিনি।

 

আবেদনে আরও জানানো হয়, উমর খালিদের মা সাবিহা খানম গত দু'বছর ধরে পিঠে সিস্ট এবং টিউমারের সমস্যায় ভুগছেন। খালিদের ৭১ বছর বয়সী বাবার পক্ষে স্ত্রীর দেখাশোনা করা সমস্যাজনক। পরিবারের বড় সন্তান এবং একমাত্র ছেলে হিসেবে এই সময়ে মায়ের পাশে থেকে সাহায্য করতে চান তিনি। আদালতে খালিদ আরও দাবি করিয়ে দেন যে, এর আগে ২০২২, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও পারিবারিক কারণে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। সে বারও তিনি সমস্ত শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলেছেন। যদিও সরকারি আইনজীবী এই জামিনের বিরোধিতা করেন। তাঁর দাবি, এই সাধারণ অস্ত্রোপচারের জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা সাহায্য করতে পারেন।

 

উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আড়ালে উত্তর-পূর্ব দিল্লি দাঙ্গা সৃষ্টির এক পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে টানা জেল হেফাজতে রয়েছেন উমর খালিদ। তবে শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছেন এই সমাজকর্মী।

 

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সিএএ এবং এনআরসি বিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তএ-পূর্ব দিল্লি। ওই ঘটনায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ৭০০-রও বেশি মানুষ। পুলিশের অভিযোগ ছিল, এই দাঙ্গার মূলচক্রী উমর খালিদ ও তাঁর সহযোগীরা। সেই সময়ে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসদমন আইন 'ইউএপিএ' এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা করা হয়।