নিতাই দে, আগরতলা: শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়ের হাতে খুন হলেন তরুণী গৃহবধূ। জানা যায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে এই খুন। বর্তমানে খুনি কাকা শ্বশুর পুলিশের হাতে আটক। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাবরুম মহকুমার রুপাইছরি ব্লক অন্তর্গত বাগমারা হরিদাস চৌধুরী পাড়া এলাকায়।
রবিবার বাড়ি থেকে কাঠ কুড়োনোর জন্য বেরিয়ে আর ঘরে ফিরে আসেননি সেই তরুণী গৃহবধূ সুন্দরম ত্রিপুরা। বাড়ির লোকের খুঁজাখুঁজিতে রবিবার রাতে বাড়ি থেকে আধ কিলোমিটার দূরে একটি জুমের খেতে পাহাড় থেকে প্রায় ১০০ মিটার নিচে সুন্দরম ত্রিপুরার মৃতদেহ দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সাবরুম মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।
মৃতদেহটিতে রক্তের দাগ ও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই তরুণী বধূর কাকা শ্বশুর পলাতক ছিল। পরবর্তী সময়ে ঘটনার তদন্তে নেমে মৃতের কাকা শ্বশুর সুনীল ত্রিপুরাকে আটক করে পুলিশ। এলাকাবাসীদের অভিযোগ কাকা শ্বশুরের সঙ্গে মৃত তরুণী বধূর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বর্তমানে মৃত তরুণী দুই মাসের গর্ভবতী ছিলেন। সেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের ঘটনা কিছুদিন আগে জানতে পেরেছিলেন স্বামীর বাড়ির লোকজন। এই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক নিয়ে গত কিছুদিন আগে সালিশি সভার আয়োজন করা হয়েছিল। মৃত তরুণীর স্বামী হাতে অস্ত্র নিয়ে সুনীল ত্রিপুরার বাড়ির ঘর ভেঙে তছনছ করে দেন। সেই ঘটনার পর থেকে সুনীল ত্রিপুরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং তরুণী গৃহবধূকে নিয়ে তাঁর স্বামী শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
শ্বশুরবাড়িতে কিছুদিন থাকার পর স্ত্রী'কে নিয়ে স্বামী নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন। বাড়িতে এসে রবিবার তরুণী গৃহবধূ জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়ে খুন হয়ে গেলেন কাকা শ্বশুর সুনীল ত্রিপুরার হাতে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কাকা শ্বশুরের জুতো এবং হাতের তাবিজ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
















