আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে তুষারপাত শুরু হয়েছে সিকিমে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের নজিরবিহীন শুষ্ক আবহাওয়ার পর সিকিমের পাহাড়ে তুষারপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের এই খামখেয়ালি রূপ যখন রীতিমত চিন্তার ভাঁজ ফেলছে কপালে, তখনই ছাঙ্গু ও নাথুলা এলাকায় তুষারপাতে আটকে পড়ে শিশুসহ ৪৬ জন পর্যটক। তাদের উদ্ধার করল ভারতীয় সেনা।
আপাতত আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ওই পর্যটকদের ১৭ মাইল এলাকায় সেনার ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। তুষারপাতের জেরে রবিবার জওহরলাল নেহরু রোডের ধারে সিপসু ও ১৬ মাইলের মাঝে প্রায় ৩৫০টি পর্যটকবাহী গাড়ি আটকে পড়ে। পর্যটক ও চালকদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে ময়দানে নামে সেনা। শুরু হয় ‘অপারেশন হিমরাহাত’। পুলিশ, জিআরইএফ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় চলে উদ্ধারকাজ।
উল্লেখ্য, আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, রবিবার বিকেল থেকে পাকিয়ং, গ্যাংটক ও মাঙন জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও তুষারপাত হতে পারে। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তর ও পূর্ব সিকিমে বৃষ্টির দাপট জারি থাকলেও পশ্চিম সিকিম মোটের ওপর শুকনোই থাকবে। মাঙন জেলায় বৃষ্টির এই রেশ ২৭ তারিখ পর্যন্ত চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে প্রবল খরা ও অনাবৃষ্টির জেরে সিকিমের নানা প্রান্তে মাঝেমধ্যেই আগুন লাগছে। কয়েক দিন আগে মাঙনে বড় ধরনের দাবানল দেখা দিয়েছিল। কুপুপ ও নাথাং-এর ঝোপঝাড়যুক্ত পাহাড়ি এলাকাতেও আগুনের ফুলকি দেখা গিয়েছে।
এর পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র জলসংকট। গ্যাংটকের প্রধান জল উৎস ‘রাতে চ্যু’-তে জলের স্তর সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। ফলে জলাধারগুলোতে নামমাত্র জল রয়েছে। অথচ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জলের চাহিদা।
প্রশাসনের কর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, পর্যটনের মরশুম ও ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে যদি এখনই জলের ব্যবহারে রাশ টানা না যায়, তবে মার্চ-এপ্রিল মাসে চরম সংকটে পড়তে পারে পাহাড়।
