ঊনবিংশ শতকের বাঙালি সাধক শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস-এর চরিত্র বহুবার ফুটে উঠেছে মঞ্চ, সিনেমা ও টেলিভিশনে।
2
10
শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসের চরিত্রে অভিনয়ের আগে বহু শিল্পীই দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছেন। ধ্যান, নিরামিষ আহার ও আধ্যাত্মিক চর্চার মাধ্যমে তাঁরা চেষ্টা করেছেন এই কিংবদন্তি সাধকের অতল গভীর আধ্যাত্মিকতার মানবিক রূপকে পর্দায় তুলে ধরা।। ফলে পর্দায় রামকৃষ্ণের চরিত্র শুধু অভিনয় নয়, হয়ে উঠেছে এক গভীর আত্মিক সাধনার ফল।
3
10
বিভিন্ন প্রজন্মের অভিনেতারা এই সাধকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পর্দায়। তালিকাটা নেহাত ছোট নয়।
4
10
গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়: সবচেয়ে আগে উচ্চারিত হয় গুরুদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। ১৯৪৮ সালের নাটক ‘যুগদেবতা’-য় তাঁর অভিনয় শুধু জনপ্রিয় হয়নি, প্রায় আইকনিক হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ‘রানি রাসমণি’, ‘বিদ্যাসাগর’ এবং ‘বীরেশ্বর বিবেকানন্দ’-য় তাঁর উপস্থিতি এই চরিত্রকে জনমনে স্থায়ী জায়গা করে দেয়। অনেকের মতে, পর্দায় রামকৃষ্ণের আধ্যাত্মিক মানবিকতা প্রথম পূর্ণতা পায় তাঁর হাতেই।
5
10
মিঠুন চক্রবর্তী: পরবর্তী প্রজন্মে এই চরিত্রে দেখা যায় জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী-কে। ১৯৯৮ সালের চলচ্চিত্র ‘স্বামী বিবেকানন্দ’-য় তাঁর সংযত, অন্তর্মুখী অভিনয় দর্শকদের নতুন করে ভাবায় রামকৃষ্ণের ব্যক্তিত্ব নিয়ে, যেখানে অলৌকিকতার চেয়ে মানবিক আভা বেশি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
6
10
চন্দন রায় সান্যাল: সাম্প্রতিক সময়ে এই ধারায় নতুন সংযোজন চন্দন রায় সান্যাল। ২০২৫ সালের চলচ্চিত্র ‘বিনোদিনী: একটি নটির উপাখ্যান’-এ তাঁর অভিনয় আলোচনায় এসেছে চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক গভীরতা ফুটিয়ে তোলার জন্য।
সুমন কুণ্ডু: ‘জগৎ জননী মা সারদা’ ধারাবাহিকে রামকৃষ্ণের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তাঁর জীবনদর্শনের সরলতা ও মমতা।
9
10
পার্থ ভৌমিক: সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিতে বাংলার শাসক দলের সাংসদ পার্থ ভৌমিককে দেখা গিয়েছে ‘শ্রীরামকৃষ্ণ’র চরিত্রে। বক্স অফিসে এ ছবি দারুণ সাফল্য না পেলেও প্রশংসিত হয়েছিল সাংসদের অভিনয়।
10
10
শশীকুমার: অন্যদিকে দক্ষিণী চলচ্চিত্রেও এই চরিত্রকে দেখা গেছে। ‘শ্রী রামকৃষ্ণ দর্শনম’ ছবিতে পরমহংস সেজে উপস্থিত হয়েছিলেন সক্খিনি অভিনেতা শশীকুমার।