আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রায় দু' দশকের পুরনো মামলা। সেই মামলায় ছত্তিশগড় হাইকোর্ট সম্প্রতি একটি মন্তব্য করেছে, আর তা নিয়েই জোর চর্চা নানা মহলে। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, ২০০৪ সালের এক মামলার প্রেক্ষিতে ছত্তিশগড় হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, যোনির ওপর পুরুষাঙ্গ ছোঁয়ালে কিংবা সঙ্গম ছাড়াই বীর্যপাত হলে তা ধর্ষণ নয়। সূত্রের খবর, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড় হাইকোর্ট মন্তব্য করেছে, পুরুষাঙ্গকে যোনির উপরে রাখা এবং পরবর্তীতে প্রবেশ না করে বীর্যপাত করাকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ৩৭৫ ধারার অধীনে 'ধর্ষণ' বলা যাবে না, যা বরং 'ধর্ষণের চেষ্টা' হিসেবে গণ্য হবে এবং আইপিসির ৩৭৬/৫১১ ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য হবে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৪ সালের ২১ মে। অভিযুক্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বাড়িতে একা থাকার সময়, অভিযোগকারিনীকে বাড়িতে নিয়ে যান জোর করে এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন মিলনের চেষ্টা করেন। ওই ব্যক্তিকে ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ধারা ৩৭৬(১) ধারায় ধর্ষণের জন্য এবং ৩৪২ ধারায় অন্যায়ভাবে আটকে রাখার জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ব্যক্তিকে আদালত সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। ২০০৫ সালে আদালত এই রায় দিলেও, অভিযুক্তর আইনজীবীর যুক্তি ছিল, মেডিক্যাল রিপোর্টে দেখা গিয়েছিল, নির্যাতিতার যোনীচ্ছদ অক্ষত রয়েছে।
এই মামলাতেই ছত্তিশগড় আদালত এই মন্তব্য করেছে বলে তথ্য সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে। তথ্য, এর আগে অভিযুক্ত জানিয়েছিলএন, তিনি নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে পুরুষাঙ্গ ছোঁয়ালেও, তা প্রবেশ করাননি। অন্যদিকে নির্যাতিতা প্রথমে এবং পরে দু'রকমের বয়ান দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ।
সূত্রের খবর, হাইকোর্ট ৩৭৬(১) ধারার অধীনে দণ্ডাদেশ বাতিল করে এবং ওই ব্যক্তিকে ৩৭৬ ধারার সঙ্গে ৫১১ ধারার অধীনে ধর্ষণের চেষ্টার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। সাজা পরিবর্তন করে তিন বছর ছ'মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বাকি সাজার জন্য, অভিযুক্তকে দু'মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
