আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল বা 'নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম' নিয়ে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বৃহস্পতিবার এই বিলের উপযোগিতা বিশদে ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রবল সমালোচনা করেন বিরোধী দলগুলোর। পঞ্চায়েত স্তরে কংগ্রেস সরকারে মহিলা জনপ্রতিনিধিদের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গ তুলে মূলত নিশানা করেন কংগ্রেসকে। লোকসভায় নরেন্দ্র মোদির এ দিনের বক্তব্যে একদিকে যেমন ছিল তীব্র ঝাঁঝ, তেমনই এক অর্থে প্রধানমন্ত্রী মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাশের জন্য সকলকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এই বিল পাশের মাধ্যমে যদি দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত হয়, তবে এই আইনের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁরা (বিরোধীরা) দাবি করতেই পারেন। এতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।

আইনসভায় নারী সংরক্ষণ এবং আসন পুনর্বিন্যাস কমিশন গঠনের লক্ষ্যে লোকসভায় উত্থাপিত তিনটি বিল নিয়ে চলা বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, যেন তাঁরা এই আইনগুলোকে নিয়ে রাজনীতি না করেন। তিনি এও সতর্ক করে দেন যে, অতীতে যেসব রাজনৈতিক দল এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছিল, তাদের নির্বাচনী ময়দানে চড়া মূল্য দিতে হয়েছিল।

এ দিন লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালীন হইহট্টগোল শুরু করেন বিরোধী দলের সাংসদরা। তবে, সেই হট্টগোল উপেক্ষা করেই নিজের বক্তব্য পেশ করেন নরেন্দ্র মোদি।

সংসদে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের নির্বাচিত সেরা উক্তিগুলো একনজরে:

* “আপনারা যদি মনে করেন যে, নারী সংরক্ষণ আইন আমাকে রাজনৈতিক সুবিধা বা বাড়তি শক্তি এনে দেবে, তবে আপনারা ঠিকই ভেবেছেন। কিন্তু আপনারা যদি এর কৃতিত্ব নিতে চান, তবে আমি আপনাদের একটি ‘খোলা চেক’ দিতে প্রস্তুত। আপনারা এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব নিয়ে নিন, আপনারা যার ছবি ছাপাতে চান, ছাপান - সরকারের তহবিল থেকেই আমরা তার ব্যবস্থা করে দেব।”

* “যখন থেকে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, তখন থেকেই - যাঁরা অতীতে এর বিরোধিতা করেছিল, দেশের নারীরা তাদের ক্ষমা করেননি; আর এর ফলে পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে তাদের শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে।”

* “আমি কিছুটা হালকা সুরেই একটি কথা বলতে চাই যে, প্রতিটি দলেরই নিজস্ব রাজনৈতিক স্বার্থ বা কারণ থাকে, আর পরাজয়ের ভয়টা অনেক সময় বেশ তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। তবে যখনই কোনও ভালো কিছু ঘটে, তখন তাকে অশুভ দৃষ্টি থেকে রক্ষা করার জন্য কপালে একটি ‘কালা টিকা’ (অশুভ শক্তি তাড়াতে কপালে কালো ফোঁটা দেওয়ার প্রথা) পরিয়ে দেওয়ার একটি রীতি প্রচলিত আছে। সেই ‘কালা টিকা’টি পরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি আপনাদের (ডিএমকে দলকে) ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

* “আমরা চাই, একটি উন্নত ভারতের নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় যেন ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’- এই মন্ত্রের প্রতিফলন ঘটে। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ নারীদেরও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার অংশীদার করে তোলা প্রয়োজন। এটিই হল বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।”

* “এই সংরক্ষণ নিয়ম ২৫-৩০ বছর আগেই প্রয়োজন ছিল। যখন এই ধারণাটি প্রথম সামনে এসেছিল - ঠিক তখনই তা কার্যকর করা দরকার ছিল। যদি আমরা সেদিনই তা করতাম, তবে আজ এই আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারতাম এবং এটিকে একটি পরিণত পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হতাম।” 

* "আমি আপনাদের কাছে এই আবেদন জানাতে এসেছি যে, আপনারা বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না। এটি জাতীয় স্বার্থে গৃহীত একটি সিদ্ধান্ত। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কোনও 'উপহার' নয়, বরং এটি নারীর অধিকার।"

* "এই গুরুত্বপূর্ণ সুযোগটি আমাদের হাতছাড়া হতে দেওয়া চলবে না। আমরা সবাই মিলে দেশকে এক নতুন দিশা দেখাব। আমাদের শাসনব্যবস্থায় সংবেদনশীলতা সঞ্চারের লক্ষ্যে আমরা এক অর্থবহ প্রচেষ্টা চালাব। এটি কেবল দেশের রাজনীতিকেই রূপ দেবে না, বরং দেশের গতিপথ ও অবস্থাও নির্ধারণ করবে।"

* প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বৃহস্পতিবার আশ্বাস দিয়েছেন যে, সীমানা পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় (যা শাসক জোট এনডিএ এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি বিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে) কোনওভাবেই পক্ষপাতদুষ্ট বা অন্যায় হবে না। লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি যে, পূর্ব থেকে পশ্চিম কিংবা উত্তর থেকে দক্ষিণ, কোনও রাজ্যের প্রতিই কোনোও অবিচার করা হবে না।"

শুরু থেকেই সংসদে আচমকা এই বিল উত্থাপনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির অভিযোগ, পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশে এই বিল পাশে তড়িঘড়ি করছে মোদি সরকার।