আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত ৪ জুন ভারতে প্রবেশ করেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। তবে নির্ধারিত সময়ে প্রবেশ করেও আচমকাই থমকে গেছে বর্ষার আগমন। প্রথমে কিছুটা দ্রুত গতিতে এগোলেও তারপর হঠাৎই কমে যায় বর্ষার গতিবেগ। এর ফলে দেশজুড়ে দেখা দিয়েছে বৃষ্টির তীব্র ঘাটতি। যা কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, কোনও এক কারণে নয়। বরং আবহাওয়ার একাধিক জটিল পরিস্থিতি সম্মিলিত ভাবে এ বার বর্ষার বিলম্বের পিছনে দায়ী।
দেশে বর্ষার বিলম্বের পিছনে মূলত পাঁচটি কারণকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরাঃ
১। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অস্থিরতা
২। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা
৩। দুর্বল নিম্নচাপ বলয়
৪। ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন (এমজে)-এর নিষ্ক্রিয়তা
৫। এল নিনো-র প্রভাব।
কী কারণে থমকে বর্ষা:
১। জুনের শুরুতে ভারত মহাসাগরে মৌসুমী বায়ুর একটি তরঙ্গ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তার শক্তির একটি বড় অংশ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় ঘূর্ণাবর্তের দিকে চলে যায়। যা পরবর্তীতে টাইফুন 'জাগমি'-তে রূপ নেয়। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপ তৈরি হয়ে বর্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সেই বায়ুমণ্ডলীয় শক্তি পূর্ব দিকে সরে যায়।
২। একই সময়ে উত্তর ভারতের উপর দিয়ে একের পর এক পশ্চিমি ঝঞ্ঝা অস্বাভাবিকভাবে দক্ষিণে নেমে আসে। এই সিস্টেমগুলি অনবরত শুষ্ক উত্তর-পশ্চিমী বাতাস বয়ে নিয়ে আসায় মেঘ তৈরি এবং বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।
৩। একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলেও তা বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প টানার পরিবর্তে অক্ষরেখা বরাবরই বাতাসকে ঘুরিয়ে দিচ্ছিল। ফলে মেঘপুঞ্জ দানা বাঁধতে পারেনি। কোনও শক্তিশালী নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি করার ক্ষেত্রেও তা বাধা দেয়।
৪। বর্তমানে সক্রিয় হতে থাকা এল নিনো আবহাওয়াকে মেঘ তৈরির জন্য প্রতিকূলতা সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি, বিশ্বজুড়ে মেঘের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণকারী 'ম্যাডেন-জুলিয়ান অসিলেশন'-ও জুনের প্রথমার্ধে ভারত মহাসাগরের ওপর নিষ্ক্রিয় বা প্রতিকূল অবস্থায় ছিল।
যদিও জুনের মাঝামাঝি পশ্চিম উপকূলে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গোপসাগরে কোনও জোরালো নিম্নচাপ না থাকায় এবং শুষ্ক বাতাসের প্রত্যাবর্তনে সেই বর্ষার 'স্পেল' দুর্বল হয়ে আবার দক্ষিণে চলে যায়।
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এবার কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, জুনের চতুর্থ সপ্তাহে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। 'এমজেও' অনুকূল পর্যায়ে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে নীচুর দিকে জেট স্ট্রিম ও পুবালী বাতাস শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তনের ফলে শুষ্ক বাতাসের দেওয়াল ভেঙে আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে দেশজুড়ে বর্ষা আবার পুরোদমে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।















