আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাকিস্তানের দখলে থাকা কাশ্মীরে (পিওকে) এক নজিরবিহীন উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা নব্বইয়ের দশকের ভূরাজনৈতিক চিত্রকে একপ্রকার উল্টে দিয়েছে। গত কয়েক দশক ধরে যে অঞ্চলের মসজিদ থেকে ভারতীয় কাশ্মীরের যুবকদের উসকে দেওয়ার মতো ঘোষণা শোনা যেত, আজ সেই মুজাফফরাবাদ ও রাওয়ালাকোটেরই মসজিদগুলোর মাইক থেকে পাক বাহিনীর চরম অত্যাচারের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার ডাক দেওয়া হচ্ছে। ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’ (জেএএসি)-র ব্যানারে সংগঠিত সাধারণ মানুষের এই বিশাল গণবিক্ষোভ সামলাতে এখন কার্যত নাভিশ্বাস উঠছে পাকিস্তান প্রশাসনের।

আটা ও প্রয়োজনীয় খাদ্যের ঘাটতি, আকাশছোঁয়া বিদ্যুৎ বিল, মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া এবং দশকের পর দশক ধরে চলা সামরিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে এই অঞ্চলে ক্ষোভ জমছিল বহুকাল ধরেই। সেই আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে চলমান স্থানীয় নির্বাচনের মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশের সাম্প্রতিক গুলিচালনার ঘটনা। বিক্ষোভস্থলের অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করা ডাক্তারদের কথায়, বুলেটে আহত ও নিহতদের অধিকাংশই ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ। তাঁদের চিকিৎসা দেওয়ার পর্যাপ্ত সরঞ্জামও স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে মিলছে না। প্রিয়জনকে হারানো মায়েরা অঝোরে কেঁদে বলছেন, পেটের ভাত আর বেঁচে থাকার অধিকার চাওয়া ছাড়া তাঁদের সন্তানদের আর কোনও  অপরাধ ছিল না। এমনকি পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরাও এখন নিজেদের সরকারের এই নজিরবিহীন দমনপীড়নের তীব্র সমালোচনা করছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন ডিজিপি এস. পি. বৈদ্য এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে মন্তব্য করেছেন যে, নব্বইয়ের দশকে সীমান্ত পারের যে সব মসজিদ থেকে প্ররোচনা ছড়িয়ে পুঞ্চসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ভারতীয় তরুণদের সীমান্ত পার হতে উস্কানি দেওয়া হতো, আজ কালচক্রে সেই পাকিস্তানই নিজেদের তৈরি বিশৃঙ্খলার মুখোমুখি। তবে ইসলামাবাদ এই গণআন্দোলনকে আড়াল করতে পুরো অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা স্তব্ধ করে দিয়েছে এবং সাধারণ বিক্ষোভকারীদের ওপর চরম আঘাত হানছে। ভারত বরাবরই এই অঞ্চলকে নিজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বর্তমান সহিংসতা পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের শোষণ ও প্রশাসনিক অত্যাচারেরই সরাসরি ফল। স্বাধিকার ও বেঁচে থাকার এই লড়াইয়ে পিওকে-র হাজার হাজার মানুষ নিজেদের দাবিতে এখন অটল।