আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক সময় ‘মিলেনিয়াল’ শব্দটি ছিল নতুন। তারপর এল ‘জেন-জি’। সম্প্রতি একাধিক দেশের ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে বারবার উঠে এসেছে ‘জেন-জি’নামটি। ফলে অনেকের মনেই প্রশ্ন—কারা এই জেন-জি?
আসলে সমাজবিজ্ঞানীরা নির্দিষ্ট সময়ে জন্ম নেওয়া মানুষদের জীবনধারা, প্রযুক্তির ব্যবহার, শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রজন্মে ভাগ করেন। সেই হিসেবেই ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের বলা হয় জেনারেশন জেড বা জেন-জি। বর্তমানে তরুণ সমাজের বড় অংশই এই প্রজন্মের অন্তর্গত এবং কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা, রাজনীতি থেকে শুরু করে সামাজিক পরিবর্তনের নানা ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব স্পষ্ট।
তবে জেন-জি'র পরে, আরও দুটি প্রজন্ম এসে গিয়েছে। জেন আলফা এবং জেন বিটা। হিসেব, এখন যুগ জেন বিটাদের। মিলেনিয়াল বা জেন-ওয়াই প্রজন্ম, অর্থাৎ ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে যাঁদের জন্ম, অন্যদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই শুরু হয়েছে নতুন প্রজন্ম—জেনারেশন বিটা। যদিও ‘জেনারেশন বিটা’নামটি এখনও কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি, তবুও ভবিষ্যৎ সমাজ, জনসংখ্যা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবন নিয়ে গবেষণায় এই নাম ইতিমধ্যেই বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভারতের প্রথম জেনারেশন বিটা শিশু?
এই নতুন প্রজন্মের সূচনার সঙ্গে জুড়ে গিয়েছে ভারতেরও একটি বিশেষ মুহূর্ত। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি রাত ১২টা ৩ মিনিটে মিজোরামের রাজধানী আইজলের সিনড হাসপাতালে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। তার নাম ফ্র্যাঙ্কি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনিই ভারতের প্রথম জেনারেশন বিটা শিশু।
নতুন বছরের উৎসবের মধ্যেই পৃথিবীর আলো দেখে ফ্র্যাঙ্কি। ফলে তার জন্মকে শুধু একটি পরিবারের আনন্দের মুহূর্ত নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের সূচনার প্রতীক হিসেবেও দেখছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। ফ্র্যাঙ্কির বাবা-মা রামজিরমাউই এবং জেডডি রেমরুতসাঙ্গা, আইজলের খাটলা এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের ইতিমধ্যেই একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। জন্মের সময় ফ্র্যাঙ্কির ওজন ছিল ৩.১২ কেজি। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মা ও সন্তান দু’জনেই সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন।
আন্তর্জাতিক পরিসরে অবশ্য বিশ্বের প্রথম জেনারেশন বিটা শিশু হিসেবে ধরা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের কমবোইনে জন্মানো রেমি-কে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’সপ্তাহ আগেই তার জন্ম হয়। সেই হিসাবে ফ্র্যাঙ্কিকে বিশ্বের দ্বিতীয় এবং ভারতের প্রথম জেনারেশন বিটা শিশু হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
প্রজন্মের বিভাজন কীভাবে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি প্রজন্মকে আলাদা করে চিহ্নিত করার পিছনে রয়েছে তাদের বেড়ে ওঠার সময়ের সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবেশ।
* মিলেনিয়ালস (Millennials): ১৯৮১–১৯৯৬
* জেনারেশন জেড (Gen Z): ১৯৯৭–২০১২
* জেনারেশন আলফা (Gen Alpha): ২০১৩–২০২৪
* জেনারেশন বিটা (Gen Beta): ২০২৫ থেকে
জেনারেশন আলফার মাধ্যমে গ্রিক বর্ণমালার ব্যবহার শুরু হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাতেই নতুন প্রজন্মের নাম রাখা হয়েছে ‘বিটা’।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ জেনারেশন বিটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজন্ম এমন এক সময়ে বড় হবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবোটিক্স, অটোমেশন, স্মার্ট প্রযুক্তি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উপস্থিত থাকবে। শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, যোগাযোগ কিংবা সামাজিক সম্পর্ক—সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির ভূমিকা হবে আরও গভীর। ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান ও দক্ষতার চাহিদাও এই প্রজন্মকে কেন্দ্র করেই বদলে যেতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। জেনারেশন বিটা এমন এক পৃথিবীতে বড় হবে, যেখানে মানুষ ও প্রযুক্তির সম্পর্ক আরও গভীর এবং আরও নিবিড় হবে।
















