আজকাল ওয়েবডেস্ক: উৎসবের সকালে ভক্তি নয়, বরং রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করল মন্দির চত্বরে। জয়পুরের তারকেশ্বর মহাদেব মন্দিরের ঘটনা। মহা শিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে খোদ মন্দিরের পুরোহিতদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী ওই মন্দিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরের শাস্তির দাবিতে মন্দিরের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন পুরোহিতরা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার শিবরাত্রি উপলক্ষে জয়পুরের পুরনো শহরের এই মন্দিরে ভক্তদের ভিপুল ভিড় ছিল। অভিযোগ, সেই সময় মানক চক থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর দলবল নিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে পড়েন। পুরোহিতদের দাবি, মন্দিরের নিয়ম ভেঙে তিনি কোমরে বেল্ট পরেই পবিত্র গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদ করতেই পুলিশের সঙ্গে পুরোহিত পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতির রূপ নেয়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রচুর মানুষের সামনেই ওই পুলিশকর্মী এবং এক পুরোহিত ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

খবর পেয়েই মন্দিরে পৌঁছন হাওয়া মহলের বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্য। তিনি পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন। বিধায়কের দাবি, ওই অফিসারের বিরুদ্ধে আগেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে মন্দিরের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে বাইরে ধরনায় বসেন পুরোহিতরা। তাঁদের সাফ কথা, আগামী ৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই সাব-ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড না করলে মন্দির খোলা হবে না। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা মন্দির চত্বরে পৌঁছে পুরোহিতদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। শিবরাত্রির ভোরে খোদ মন্দির চত্বরে পুলিশি ‘দাদাগিরি’র এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশজুড়ে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে মহা শিবরাত্রি। উপোস করে ভক্তরা শিবের পুজোর আয়োজনে মেতে রয়েছেন। চার প্রহরে শিবলিঙ্গকে জল, দুধ অর্পণ করে উপোস ভাঙবেন তাঁরা। এই আবহে ভক্তদের নানা কীর্তির ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক মাধ্যমে। 

সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে এক শিব ভক্তের কীর্তি। কী করেছেন তিনি? এক নিঃশ্বাসে শিবের ৩২ নাম উচ্চারণ করেছেন। যার নেপথ্যে রয়েছে মিউজিকও। এক নিঃশ্বাসে শিবের নাম উচ্চারণের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে নেটিজেনদের। 

ভিডিওটিতে দেখা গেছে, বরফে ঢাকা পাহাড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন মিউজিশিয়ান এবং একজন সঙ্গীতশিল্পী। এক নিঃশ্বাসে ওই সঙ্গীতশিল্পী শিবের মহাকাল, রুদ্রনাথ, নীলকণ্ঠ, ভোলেনাথ, সোমনাথ-সহ ৩২ নাম উচ্চারণ করেছেন‌। শিব ভক্ত সঙ্গীতশিল্পীর এই ভিডিওটি হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে। লক্ষাধিক মানুষ এই ভিডিওটি দেখেছেন। 

একজন লিখেছেন, 'গায়ে কাঁটা দিল। একেই বলে আসল ভক্ত।' আরেকজন লিখেছেন, 'অসাধ্য সাধন করেছেন আপনি।' এক যুবক লিখেছেন, 'শিবের অশেষ কৃপায় সব সম্ভব!' 

মহা শিবরাত্রি উপলক্ষে আরও একটি ঘটনা ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল শুরু হয়েছে। মহা শিবরাত্রির দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম মন্দিরে। সবার মধ্যে নজর কাড়লেন বোরখা পরা এক তরুণী। তাঁর কণ্ঠেও 'হর হর মহাদেব' ধ্বনি। বোরখা পরেই কেন কাঁওয়ার যাত্রায় অংশ নিলেন? এবার কারণ ফাঁস করলেন তিনি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, তরুণীর নাম, তামান্না মালিক। তিনি উত্তরপ্রদেশের সম্বলের বাসিন্দা। সম্প্রতি বোরখা পরিহিত তামান্নাকে কাঁওয়ার যাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে। হরিদ্বার থেকে গঙ্গাজল সংগ্রহ করে, ওই তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। যে ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল নেটিজেনদের মধ্যে। 

তামান্না জানিয়েছেন, আমন ত্যাগী নামের এক যুবকের সঙ্গে তিনি সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। এই বিয়ে নিয়েই মানত করেছিলেন তিনি। যা পূরণ হতেই গঙ্গাজল কাঁধে চাপিয়ে কাঁওয়ার যাত্রা করেছেন। তামান্নার কথায়, 'আমি ঈশ্বরের কাছে আমনের সঙ্গে বিয়ের জন্য প্রার্থনা করেছিলাম। ঈশ্বর আমার মনস্কামনা পূরণ করেছেন। তাই কাঁওয়ার যাত্রায় অংশ নিয়েছি।' 

পরনে বোরখা। অথচ কাঁধে গঙ্গাজল, কাঁওয়ার নিয়ে যখন তিনি সম্বলে প্রবেশ করেন, তাঁকে দেখার জন্য রাস্তায় লোক জড়ো হয়ে যায়। কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে দেখেন। অনেকেই তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতে চান। কেউ নগদ টাকা পুরস্কার দেন। কেউ কথা বলার জন্য ছুটে আসেন। সেই রাস্তায় নিরাপত্তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনীও ছিল। 

পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তামান্নার ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই রাস্তায় কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমিয়েছেন। শিবরাত্রি উপলক্ষে এমনিতেই ভক্তদের ভিড় রয়েছে।‌ বোরখা পরেই শিবরাত্রি পালন করছেন তামান্না, এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন। 

গোটা যাত্রায় তামান্নার পাশেই ছিলেন তাঁর স্বামী আমন। রবিবারেই মহা শিবরাত্রির দিন গভীর রাতে মন্দিরে পৌঁছে যাবেন তিনি। ধর্ম, জাত তুলে 'হর হর মহাদেব' বলেই মন্দিরের উদ্দেশে হেঁটে চলেছেন মুসলিম তরুণী।