আজকাল ওয়েবডেস্ক: জ্বর, পেট ব্যথা, বমি। এই উপসর্গেই একের পর এক মৃত্যু গ্রামে। যা ঘিরে রীতিমতো শোরগোল গোটা এলাকায়। আবারও কি দূষিত পানীয় জল থেকেই মৃত্যুমিছিল? আতঙ্কে ঘুম উড়েছে এই গ্রামে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে হরিয়ানার এক গ্রামে। জানা গেছে, পালাওয়াল জেলার এক গ্রামে একের পর এক রহস্যমৃত্যু। দিন কয়েকের মধ্যেই ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে পাঁচজন স্কুল পড়ুয়াও রয়েছে। সকলের উপসর্গ এক ছিল। এখনও অসুস্থ হয়ে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা গেছে, ছৈনসা গ্রামে দিন কয়েক আগে আচমকাই একাধিক বাসিন্দা অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জানুয়ারি মাসের শেষ থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন পরপর গ্রামবাসী। জ্বর, পেট ব্যথা, ঘনঘন বমি, গায়ে ব্যথার মতো উপসর্গ ছিল সকলের। সাধারণ জ্বরের মতো মনে হলেও, ক্রমেই রোগীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে একের পর এক প্রাণহানি ঘটে।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, প্রতি ঘরে বর্তমানে কমপক্ষে একজন করে অসুস্থ রয়েছেন। অনেকেরই শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বহু গ্রামবাসী ভর্তি রয়েছেন। গত ১৫ দিনে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে স্কুল পড়ুয়া, কিশোর কিশোরী থেকে তরুণরাও রয়েছেন।
রহস্যজনক অসুস্থতার পরেই স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে ৬০০ গ্রামবাসীর মেডিক্যাল টেস্ট করা হয়েছে। ৩০০ জনের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্য কর্মীদের ধারণা, অনেকেই হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি-এ আক্রান্ত। অনেকের কিডনি বিকল হয়ে মৃত্যু হয়েছে। এমনকী কয়েকজনের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও একসঙ্গে ১২ জনের মৃত্যুর পিছনে আর কোনও কারণ আছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোটা গ্রাম থেকে জলের শতাধিক নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মধ্যে ২৩টি জায়গায় দূষিত জলের সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিও রয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, চারজন মৃতের শরীরে হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ ছিল। দূষিত পানীয় জলের কারণেই প্রাণহানি ঘটছে কিনা, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন স্থানীয়রা।
পানীয় জল থেকে একের পর এক ভয়াবহ ঘটনার সাক্ষী থেকেছে একাধিক শহর। ইন্দোরের ভাগীরথপুরায় বিষাক্ত পানীয় জল খেয়ে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। যদিও সরকার জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২০টি পরিবারকে দু'লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের শেষ থেকেই ইন্দোরে বিষাক্ত পানীয় জল খেয়েই মৃত্যুমিছিল শুরু হয়। জানুয়ারির শুরুতেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হাসপাতালে এখনও চিকিৎসাধীন ছিলেন ২০০ জন। ঘনঘন বমি, পেট ব্যথা, পেট খারাপের মতো উপসর্গ ছিল সকলের। বিষাক্ত পানীয় জল খাওয়ার পরেই বিপত্তি বাড়ে। অসুস্থ হয়ে পড়েন ন'হাজারের বেশি বাসিন্দা।
এরপর গুজরাটের গান্ধীনগরেও বিষাক্ত জলের অভিযোগ উঠেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারির শুরুতে গান্ধীনগরের শতাধিক বাসিন্দা টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে ১০৪ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন রোগীদের তালিকায় শিশুরাও ছিল।
গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সংঘভি ইতিমধ্যেই গান্ধীনগর সিভিল হাসপাতালে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জানান, ২২ জন বিশেষজ্ঞ ও ডাক্তারদের নিয়ে একটি টিম তৈরি করে, রোগীদের দেখভাল করা হচ্ছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এই টিম।
