আজকাল ওয়েবডেস্ক: খাস আদালত কক্ষেই বিচারককে খুনের চেষ্টা! রায়ে পছন্দ না হওয়ায় বিচারকের দিকে সরাসরি কাটারি ছুড়ে মারলেন এক ব্যক্তি। সোমবার তামিলনাড়ুর বিরুধুনগর জেলার শ্রীবিল্লিুপুত্তুর ফ্যামিলি কোর্টে এই নজিরবিহীন ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অল্পের জন্য প্রাণরক্ষা পেয়েছেন বিচারক।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম বালামুরুগান। স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদের মামলা চলছিল। ওই দিন ফ্যামিলি কোর্টের স্থায়ী বিচারক না থাকায় মামলার শুনানি করছিলেন পিওসিআর আদালতের বিচারক সুধাকর। তিনি রায় ঘোষণা করতেই মেজাজ হারান বালামুরুগান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের সঙ্গে আনা একটি কাটারি তিনি বিচারকের আসন লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন।

অস্ত্রটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় বিচারক সুধাকর অক্ষত আছেন। তবে এই ঘটনায় আদালত চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তড়িঘড়ি এসে অভিযুক্তকে পাকড়াও করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন। আদালত কক্ষের নিরাপত্তা এড়িয়ে কীভাবে তিনি অস্ত্র নিয়ে ঢুকলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উৎসবের সকালে ভক্তি নয়, বরং রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করল মন্দির চত্বরে। জয়পুরের তারকেশ্বর মহাদেব মন্দিরের ঘটনা। মহা শিবরাত্রির পুণ্যতিথিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে খোদ মন্দিরের পুরোহিতদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ উঠল। এই ঘটনায় রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী ওই মন্দিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযুক্ত সাব-ইন্সপেক্টরের শাস্তির দাবিতে মন্দিরের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন পুরোহিতরা।

স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার শিবরাত্রি উপলক্ষে জয়পুরের পুরনো শহরের এই মন্দিরে ভক্তদের ভিপুল ভিড় ছিল। অভিযোগ, সেই সময় মানক চক থানার এক সাব-ইন্সপেক্টর দলবল নিয়ে মন্দিরের গর্ভগৃহে ঢুকে পড়েন। পুরোহিতদের দাবি, মন্দিরের নিয়ম ভেঙে তিনি কোমরে বেল্ট পরেই পবিত্র গর্ভগৃহে প্রবেশ করেন। এর প্রতিবাদ করতেই পুলিশের সঙ্গে পুরোহিত পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতির রূপ নেয়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রচুর মানুষের সামনেই ওই পুলিশকর্মী এবং এক পুরোহিত ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

খবর পেয়েই মন্দিরে পৌঁছন হাওয়া মহলের বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্য। তিনি পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিককে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন। বিধায়কের দাবি, ওই অফিসারের বিরুদ্ধে আগেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ ছিল।

এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে মন্দিরের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে বাইরে ধরনায় বসেন পুরোহিতরা। তাঁদের সাফ কথা, আগামী ৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই সাব-ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড না করলে মন্দির খোলা হবে না। উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা মন্দির চত্বরে পৌঁছে পুরোহিতদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। শিবরাত্রির ভোরে খোদ মন্দির চত্বরে পুলিশি ‘দাদাগিরি’র এই ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।