আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুখের সংসার টিকল না পাঁচ মাস। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নির্মমভাবে খুন নববধূ। ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন করে বাড়ি ফেরার পথেই সব শেষ। মূল অভিযুক্ত হিসেবে স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে গুরুগ্রামে। সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, তরুণী এক বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন। পাঁচ মাস আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল। স্বামীর সঙ্গে গাড়িতে করে নববধূ যাচ্ছিলেন। সেই গাড়ি থেকেই তাঁর গলা কাটা দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত তাঁর স্বামী। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, মৃত তরুণীর নাম, মেহেক। তিনি হাঁসির বাসিন্দা ছিলেন। গুরুগ্রামেই এক নামী বেসরকারি ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন তিনি। রবিবার রাতে গাড়িতে করে স্বামীর সঙ্গে গুরুগ্রামে ফিরছিলেন। গতকাল হাঁসি ও বাদলির মাঝামাঝি জায়গায় ঘটনাটি ঘটেছে। গতকাল রাত ১১টা নাগাদ থানায় গিয়ে তাঁর স্বামীই খুনের ঘটনাটি জানিয়েছেন। 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, মেহেক অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তাঁর ঘাড়ে কাঁচি দিয়ে পরপর কুপিয়ে খুন করা হয়েছে। তাঁর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাহাদুরগড় সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তরুণীর স্বামীকে মূল অভিযুক্ত হিসেবেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। 

আরও জানা গেছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে মেহেক ও অংশুলের দেখাশোনা করে বিয়ে হয়েছিল। দু'জনেই গুরুগ্রামে কর্মরত ছিলেন। অংশুল চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হিসেবে কর্মরত। শনিবার ভ্যালেন্টাইনস ডে উদযাপন করতে হিসারে গিয়েছিল নবদম্পতি। রবিবারেই গুরুগ্রামে বাড়িতে ফিরছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায় খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। 

দিন কয়েক আগে আরেকটি নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল। টাকার লোভে নৃশংস হত্যাকাণ্ড। বিয়ের পর থেকেই পণের জন্য জোরাজুরি। অবশেষে নববধূকে খুন করে, বাবার বাড়ির সামনে নিথর দেহ ছুড়ে ফেলে পালালেন অভিযুক্তরা। পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হল থানায়। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের বৈশালীতে। রবিবার পুলিশ জানিয়েছে, এক নববধূর রহস্যমৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে এই জেলায়। নববধূর মৃতদেহ উদ্ধারের পরেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেছে পরিবার। সরন জেলায় হরিহর নাথ থানার অন্তর্গত পেড়িয়া বাজার এলাকায় বাবার বাড়ির সামনেই লুটিয়ে ছিল নববধূর নিথর দেহ। 

পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের অভিযোগ, গত ১৬ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ কালো রঙের স্করপিও গাড়িতে করে নববধূর দেহটি এনে বাড়ির সামনে ফেলে দিয়েছিলেন অভিযুক্ত এক যুবক। এরপর ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান। ওই গাড়িটি পুলিশের এক সাব ইন্সপেক্টরের। পরদিন সকালে বাড়ির সামনে থেকে নববধূর দেহটি উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। খতিয়ে দেখা হয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ। 

মৃত তরুণীর নাম, সরিতা। তাঁর বাবা জানিয়েছেন, ন'মাস আগে সত্যেন্দ্র কুমারের সঙ্গে সরিতার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের সময় সামর্থ্য অনুযায়ী পণ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতেও সন্তুষ্ট ছিলেন না সরিতার শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা‌। আরও নগদ টাকার দাবি জানিয়েছিলেন। জমির রেজিস্ট্রেশনের জন্য আট লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন তিনি। সরিতার শ্বশুরবাড়ি আরও তিন লক্ষ টাকা দাবি করেছিল। এই টাকা নিয়েই নিত্যদিন হেনস্থা করা হত তাঁকে। 

পরিবারের অভিযোগ, সরিতাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। গলায় দাগ রয়েছে তাঁর। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী সহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচজন সদস্যের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকের গাড়ি কেন এই ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় ওই পুলিশ আধিকারিক জড়িত কিনা, তাও তদন্ত করছে পুলিশ।