আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিলনাড়ুর তিরুপুরে চাঞ্চল্য। অভিযোগ র্যাপিডো চালকের বিরুদ্ধে৷ তিনি যাত্রার পর যুবতীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে আপত্তিজনক ভিডিও পাঠান। যুবতী এই খবর সমাজ মাধ্যমে জানাতেই শোরগোল।
তিরুপুরের এক বাসিন্দা সমাজমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন যে, র্যাপিডো চালক তাঁর পরিবারের এক মহিলাকে চরম হেনস্থা করেছেন। রাইড শেষ হওয়ার পরেও সেই চালক নাকি মহিলার ব্যক্তিগত ফোন নম্বর জোগাড় করে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপে অত্যন্ত কু মন্তব্য করেন। শুধু তাই নয়, অশ্লীল বার্তা ও ছবি-ভিডিও পাঠিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, গত ১৬ অক্টোবর মহিলা র্যাপিডো বাইকে চেপেছিলেন। গন্তব্যে নামার পর ওই চালক কোনওভাবে তাঁর নম্বর জোগাড় করেন। অভিযোগ, সেই রাতেই রাত ১১টা নাগাদ চালকটি বারবার ফোন করেন, টেক্সট মেসেজ পাঠান এবং পর্নোগ্রাফিক ছবি ও ভিডিও পাঠাতে শুরু করেন। ব্যক্তি তাঁর পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, শহরে অনেক মহিলাই এই ধরনের সমস্যায় পড়েন। তিনি লিখেছেন, "র্যাপিডো ব্যবহার করা মহিলাদের জন্য বিপজ্জনক। কারণ চালকরা প্রায়ই গ্রাহকের ফোন নম্বর খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে।" তাই পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। মহিলাদের সুরক্ষার জন্য র্যাপিডো বাইক পরিষেবা বন্ধ করারও দাবি তুলেছেন তিনি৷
এই পোস্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, "তামিলনাড়ুতে অটোচালকদের বেশ ভালো সুনাম আছে। তাঁদের স্ট্যান্ড নথিভুক্ত ও নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় তাঁদের সঙ্গে মহিলারা বেশি নিরাপদ।"
র্যাপিডোর পক্ষ থেকে 'র্যাপিডো কেয়ারস' নামের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, "গ্রাহকের সুরক্ষা আমাদের কাছে সবার আগে। চালকের এই খারাপ আচরণের জন্য আমরা দুঃখিত। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।" সংস্থাটি নির্যাতিতাকে আইনি সাহায্য দেওয়ার এবং বিষয়টি দেখভালের জন্য একটি বিশেষ দল নিয়োগের আশ্বাস দিয়েছে।
তবে এই প্রথম নয়। আগেও র্যাপিডোর বিরুদ্ধে গ্রাহকের তথ্য ভুলভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। গত মে মাসে নয়ডার এক মহিলাও একই অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, তিনি নম্বর না দেওয়া সত্ত্বেও রাইড শেষে চালক তাঁকে খারাপ মেসেজ পাঠাতে শুরু করেন। প্রশ্ন ওঠে যে, চালক কীভাবে নম্বর পেলেন। অনেকেই তখন বলেছিলেন যে ইউপিআই-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করলে হয়তো নম্বর দেখা যায়। অন্যরা তাঁকে দ্রুত পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেন।
