আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইন্দোরের সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও টাটকা, যেখানে নর্দমার জল পানীয় জলের লাইনে মিশে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২০ জন মানুষ। ঠিক কয়েক মাসের মাথায় রাজস্থানের জয়পুর থেকেও উঠে এল প্রায় একই রকম এক শিউরে ওঠা ছবি। জয়পুরের সুশীলপুরা এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ঘরে ঘরে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। অভিযোগ সেই একই—পানীয় জলের পাইপলাইনে ঢুকে পড়েছে নর্দমার নোংরা জল। বমি, ডায়রিয়া, তীব্র পেটে ব্যথা আর জ্বরে কার্যত নাজেহাল ওই এলাকার শয়ে শয়ে বাসিন্দা। বিশেষ করে শিশু আর বৃদ্ধদের অবস্থা সবথেকে শোচনীয়।

সুশীলপুরার অলিগলিতে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে যন্ত্রণার কথা। স্থানীয় বাসিন্দা পূরণ মল কুমায়াত জানালেন, তাদের বাড়ির সবাই ডায়রিয়ায় ভুগছেন, দুর্বলতায় শরীর ভেঙে পড়েছে। তার স্ত্রীকে সুস্থ করতে ইনজেকশন পর্যন্ত নিতে হয়েছে। জানকী সাইনি নামে এক মা করুণ সুরে শোনালেন তার তিন সন্তানের কথা, যারা পেটের ব্যথা আর জ্বরে ছটফট করছে। এখন বাধ্য হয়ে তারা বাইরের থেকে জল কিনে আনছেন অথবা ট্যাঙ্কারের ভরসায় বসে থাকছেন। এই পরিস্থিতি কেবল স্বাস্থ্যেরই ক্ষতি করছে না, সাধারণ মানুষের পকেটেও বড় টান দিচ্ছে। জগদীশ সাহুর মতো অনেক বাসিন্দার আক্ষেপ, চিকিৎসার খরচ আর প্রতিদিন জল কেনার বাড়তি পয়সা গুনতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠছে।

কেন এমন পরিস্থিতি হল? এলাকার মানুষের আঙুল প্রশাসনের দিকেই। সম্প্রতি সেখানে রাস্তা তৈরির কাজ হয়েছে, আর অভিযোগ উঠেছে যে সেই সময় মাটির তলার পানীয় জলের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই ফাটা অংশ দিয়েই নর্দমার নোংরা জল পানীয় জলের লাইনে ঢুকে পড়ছে। নর্দমাগুলো উপচে পড়ছে আর ভাঙা রাস্তার ধুলো-কাদায় পরিস্থিতি আরও নরকীয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সরকারি ডিসপেনসারির প্রধান চিকিৎসক ডঃ অনিল মেহতা জানিয়েছেন, গত তিন দিনেই ১৫০-এর বেশি রোগী এই একই উপসর্গ নিয়ে তাঁর কাছে এসেছেন। বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর অবস্থাও তথৈবচ।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বর্তমান বিধায়ক গোপাল শর্মা এলাকা পরিদর্শন করে আশ্বাস দিয়েছেন যে, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা পাকাপাকি সমাধানের চেষ্টা করছেন। ওষুধ বিলি এবং জলের বিকল্প ব্যবস্থার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তবে প্রাক্তন বিধায়ক প্রতাপ সিং খাচরিয়াবাস প্রশাসনের চরম অবহেলাকেই দায়ী করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, রাস্তা ভালো থাকা সত্ত্বেও কেন তা খোঁড়া হল? আর সেই অপরিকল্পিত কাজের জন্যই আজ সাধারণ মানুষকে বিপদে পড়তে হচ্ছে।

ট্যাঙ্কারের জল এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। এখনও বহু বাড়িতে রান্নার কাজ বা অন্যান্য প্রয়োজনে সেই দূষিত জলই ব্যবহার করতে হচ্ছে। জয়পুর এবং ইন্দোরের এই দুই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে আমাদের শহরগুলোর জল পরিষেবা ব্যবস্থা কতটা নড়বড়ে। আধুনিক ভারতের স্বপ্ন দেখলেও, সুরক্ষিত পানীয় জলের মতো একটি মৌলিক চাহিদার অভাব আজও সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সুশীলপুরার বাসিন্দারা এখন কেবল দ্রুত মেরামতিই চাইছেন না, তাঁরা চাইছেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা। আপনার এলাকায় কি জল সরবরাহের দিকে প্রশাসন যথেষ্ট নজর দিচ্ছে? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।