আজকাল ওয়েবডেস্ক: নয়াদিল্লির কর্তব্য ভবন ২-এ অনুষ্ঠিত চতুর্থ বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করল অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রীগোষ্ঠী। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ভারতের প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এদিনের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর, রাসায়নিক ও সারমন্ত্রী জগত প্রকাশ নাড্ডা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি, ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী, অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী কিনজারাপু রামমোহন নাইডু, বন্দর, জাহাজ ও জলপথমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল, শ্রম ও কর্মসংস্থান, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী ড. মনসুখ মান্ডাভিয়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্ব) ড. জিতেন্দ্র সিং।
বৈঠকের পরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত ও অস্থির। তিনি বলেন, "পরিস্থিতি শান্ত হলেও বা পুনরায় উত্তেজনা বাড়লেও— উভয় অবস্থার জন্যই ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে"।
এক্স হ্যান্ডেলে করা পোস্টে রাজনাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি ‘ভারত মেরিটাইম ইন্স্যুরেন্স পুল’ গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার অনুমোদনের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। ১২,৯৮০ কোটি টাকার সার্বভৌম গ্যারান্টি সহ এই প্রকল্প ভারতীয় সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য ধারাবাহিক ও সাশ্রয়ী বিমা সুবিধা নিশ্চিত করবে। অস্থির সামুদ্রিক করিডোর দিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও ভারতীয় বাণিজ্য যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি জানান।
এদিনের বৈঠকে আরও জানানো হয়, বিশ্বব্যাপী সরবরাহে ধাক্কা লাগলেও ভারতে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। বর্তমানে দেশে ৬০ দিনের বেশি সময়ের জন্য অপরিশোধিত তেল, পেট্রোল, ডিজেল ও এভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল বা এটিএফ মজুত রয়েছে। এলএনজি প্রায় ৫০ দিনের এবং এলপিজি প্রায় ৪০ দিনের জন্য পর্যাপ্ত মজুত আছে। স্ট্রেইট অব হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও লাতিন আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়ানো হয়েছে। এপ্রিল ও মে ২০২৬-এর আমদানিও প্রায় নিশ্চিত করা হয়েছে।
এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমাতে পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। মার্চ ২০২৬ থেকে ৪.৭৬ লক্ষ নতুন পিএনজি সংযোগ চালু হয়েছে। আরও ৫.৩৩ লক্ষ গ্রাহক নতুন সংযোগের জন্য নিবন্ধন করেছেন। ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৭,৫০০-র বেশি গ্রাহক এলপিজি সংযোগ ছেড়ে পিএনহি-তে সরে এসেছেন, যা প্রতিদিন ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।
দেশীয় শিল্পের জন্য পেট্রোকেমিক্যাল কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রক যৌথ কর্মী গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। সরকার ১০০০ মেট্রিক টন প্রতিদিন এলপিজি পুল থেকে ফার্মা ও রাসায়নিক শিল্পের জন্য বরাদ্দ করেছে। ৯ এপ্রিল থেকে প্রায় ৩২০০ মেট্রিক টন প্রোপিলিন বিক্রি হয়েছে।
পাশাপাশি এমনটাও জানান, খাদ্যপণ্যের পাইকারি ও খুচরো মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ২৫ লক্ষ মেট্রিক টন গম রপ্তানির সুপারিশ করা হয়েছে। এলপিজি সংক্রান্ত অভিযোগও কমছে। প্রোপিলিন সরবরাহ বিপিসিএল কোচি ও মুম্বই রিফাইনারি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মিথানল সরবরাহ আসাম পেট্রোকেমিক্যালস ও জিএনএফসি থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দেশে ইউরিয়া, ডিএপি, এনপিকে, এসএসপি ও এমওপি-সহ সার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ১ মার্চ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ৪৭.৫০ লক্ষ টন সার সরবরাহ হয়েছে। ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য এলএনজি সংগ্রহেও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সার মজুত, কালোবাজারি ও মজুতদারি রোধে এপ্রিল মাসে ৮,৩৩০টি অভিযান চালানো হয়েছে। ১৭১টি লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হয়েছে এবং ৩২টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। ১.৮৫ লক্ষের বেশি নজরদারি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, "প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে হবে।" একই সঙ্গে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে নেওয়া ভালো পদক্ষেপগুলি নথিভুক্ত করে অন্যত্র প্রয়োগের উপরও জোর দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, "অন্যান্য দেশ যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেগুলিও পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে ভারতের প্রতিক্রিয়া আরও শক্তিশালী করতে হবে।"
















