আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে ভারতের ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস। দিল্লির কর্তব্য পথে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।

এই বছর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন।

এদিন সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীকে প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ভারতের সম্মান, গৌরব ও মর্যাদার প্রতীক এই মহান জাতীয় উৎসব আপনাদের জীবনে নতুন শক্তি ও উদ্দীপনা সঞ্চার করুক।’

এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিও। তিনি লিখেছেন, ‘প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের সংবিধানে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়, স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতি আবারও অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার দিন এটি। সামাজিক সম্প্রীতির পথে এগিয়ে চলার সংকল্প গ্রহণ করা জরুরি। আজ একটি প্রাচীন প্রবাদ মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি। স্বাধীনতার মূল্য হল চিরন্তন সতর্কতা। সেই সতর্কতা বজায় রাখার জন্যই সকলকে আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের প্রজাতন্ত্র এবং সংবিধান আজ সম্মিলিত সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ দাবি করে। এই বিশেষ দিনে দেশের সকল স্বাধীনতা সংগ্রামী, সংবিধান প্রণেতা, আমাদের জওয়ান এবং ভারতের সাধারণ নাগরিকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’

জানা গিয়েছে, সকাল ১০.৩০ নাগাদ প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। তার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতীয় যুদ্ধ স্মৃতিসৌধে শহিদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।

এরপর তিনি অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। রীতি অনুযায়ী জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় ১০৫ মিমি লাইট ফিল্ড গান দিয়ে ২১ বার ফায়ার করা হবে।

এটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি আর্টিলারি ব্যবস্থা। ১৭২ ফিল্ড রেজিমেন্টের ১৭২১ সেরিমোনিয়াল ব্যাটারির তরফে এই ফায়ারিং করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

১৯৫০ সালের এই দিনেই সংবিধান গৃহীত হয়েছিল। ভারত একটি সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের মূল বিষয় হল "বন্দেমাতরমের ১৫০ বছর" পূর্তি, যা জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতার জন্য করা আত্মত্যাগকে প্রতিফলিত করে।

এই দিনটি নতুন দিল্লির কর্তব্য পথে একটি জমকালো কুচকাওয়াজের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। প্রদর্শিত হয় সামরিক শক্তি এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। ভারতের রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। কুচকাওয়াজের পর বিভিন্ন রাজ্যের লোকনৃত্য, সঙ্গীত এবং ট্যাবলো প্রদর্শিত হয়। পদ্ম পুরস্কার এবং বীরত্ব পুরস্কারও প্রদান করা হয়।