আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস করার পর ‘কুষ্ঠি’ বা ‘কুণ্ডলী’ মেলেনি- এই অজুহাতে বিয়েতে অস্বীকার করা এখন থেকে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছে, এই ধরনের আচরণ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৬৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘প্রতারণামূলক উপায়ে যৌন সঙ্গম’ করা।

সম্প্রতি এক ব্যক্তির জামিনের আবেদন খারিজ করতে গিয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন বিচারপতি স্বরণ কান্ত শর্মা। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, এক মহিলার সঙ্গে দীর্ঘ আট বছরের সম্পর্কের পর তিনি বিয়ে করতে অস্বীকার করেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁদের কুণ্ডলী মিলছে না, তাই বিয়ে করা সম্ভব নয়।

বিচারপতি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বারবার ওই মহিলাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তাঁদের বিয়েতে কোনও বাধা আসবে না, এমনকী কুণ্ডলী মেলার বিষয়টিও কোনও সমস্যা হবে না। সেই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই দু’জনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। আদালতের মতে, এই পরিস্থিতিতে কুণ্ডলী না মেলার দোহাই দিয়ে বিয়ে থেকে পিছিয়ে আসা আদতে প্রতারণা।

আদালতে অভিযুক্তের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে ছিল। গত আট বছর ধরে তাঁরা একে অপরকে চিনতেন। তাই একে ‘বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ’ বলা চলে না। কিন্তু আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে ওই মহিলা প্রথম অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের প্রতিশ্রুতি পেয়ে তিনি তা তুলে নেন। এর পর ফের কুণ্ডলী না মেলার কথা বলে বিয়েতে বেঁকে বসেন অভিযুক্ত। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়।

বিচারপতি শর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেবল সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা বিয়ে না হওয়া মানেই ফৌজদারি অপরাধ নয়। কিন্তু এই ক্ষেত্রে অভিযুক্ত জানতেন যে তাঁর পরিবার কুণ্ডলী মেলানো নিয়ে কড়াকড়ি করবে, তা সত্ত্বেও তিনি বারবার বিয়ের মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছেন। 

আদালতের ভাষায়, "আগে আশ্বাস দিয়ে পরে কুষ্ঠির দোহাই দেওয়া ওই ব্যক্তির 'চরিত্র' নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রাথমিক ভাবে এটি বিএনএস-এর ৬৯ নম্বর ধারার আওতায় একটি অপরাধ।" অভিযোগের গুরুত্ব এবং তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত।