আজকাল ওয়েবডেস্ক: যন্তর মন্তরে সিজেপি-র বিক্ষোভ চলাকালীন ২,৮৭৩ জনকে অপরাধী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শতাধিক ফুটেজকে 'ফেসিয়াল রিকগনিশন সিস্টেম' (মুখের বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার প্রযুক্তি)-এর মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা এমনই জানিয়েছেন। সংসদে পেশ করা একটি নথিতে এই দাবি করেছে কেন্দ্র।

ওই নথি অনুযায়ী, 'ক্রাইম-কুন্ডলী' ডাটাবেসের মাধ্যমে ২,৪০২ জন এবং 'ডসিয়ার' রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে আরও ৪৭১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শনাক্তকৃত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৮৭৩-এ।

নথিতে শনাক্তকৃত ব্যক্তিদের বিভিন্ন অপরাধের ধরন অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১০১ জন ব্যক্তি হত্যা মামলার সঙ্গে, ৬২ জন হত্যার চেষ্টার সঙ্গে এবং ২৮৪ জন ডাকাতি ও ছিনতাই-সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এতে আরও দাবি করা হয়েছে যে, ৬১ জনকে ধর্ষণ মামলার সঙ্গে এবং ৬ জনকে 'প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস' বা পকসো আইনের অধীনে অপরাধের সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ জনকে মহিলাদের শ্লীলতাহানি বা হেনস্থা সংক্রান্ত মামলার আওতায় চিহ্নিত করা হয়েছে।

উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২২৯ জনকে 'আর্মস অ্যাক্ট' (অস্ত্র আইন), ১৩৫ জনকে ছিনতাই, ১৯ জনকে অপহরণ-সংক্রান্ত অপরাধ এবং ৬৭ জনকে 'নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস' (এনডিপিএস) আইনের আওতায় দায়ের করা মামলার সঙ্গে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

১,৮৮৪ জন ব্যক্তিকে "অন্যান্য আইপিসি /বিএনএস এবং বিশেষ আইন"-এর আওতায় শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ হল— ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি), ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং অন্যান্য বিশেষ আইনের বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলা।

নথিতে বলা হয়েছে, যন্তর মন্তরে সিজেপি বিক্ষোভের সময় মোতায়েন করা এফআরএস ভ্যানগুলোর মাধ্যমেই এই শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে, মুখাবয়ব শনাক্তকরণের ফলে কোনও গ্রেপ্তার, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা পরবর্তী তদন্তের পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না, তা এতে উল্লেখ করা হয়নি। পাশাপাশি শনাক্তকৃত ব্যক্তিদের শ্রেণীবদ্ধ করার ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়েও কোনও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।