আজকাল ওয়েবডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরে চুরির ঘটনায় একই পরিবারের দু'জন সদস্যের নাম উঠে এসেছে। মন্দিরের দানপাত্র থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন অনুকল্প মিশ্র এবং তাঁর শ্যালক লভকুশ মিশ্র।
ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী গণনার দায়িত্বে থাকা দলে অনুকল্প, তাঁর ভগ্নিপতি লভকুশকে কাজে লাগিয়েছিলেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, অনুকল্প এই চক্রের মূল হোতা। রামমন্দিরে চুরির ঘটনা দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অযোধ্যায় অনুকল্পের গ্রামে গিয়ে তার লাগানো জীবনযাত্রা সম্পর্কে সব তথ্য জানা গিয়েছে। প্রথমেই চোখে পড়ে তাঁর বাড়ি। সেই বাড়ি ওই এলাকার অন্য সব বাড়ির চেয়ে একেবারেই আলাদা। বাসভা গ্রামের সবচেয়ে বিলাসবহুল বাড়িও সেটিই।
মিশ্র পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে না থাকলেও, পাশের বাড়িতে বসবাসকারী এক আত্মীয় জানান যে- দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ রয়েছে।
প্রতিবেশীরাও পরিবারটির আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। অনেকের মতে, কিছুদিন আগেও পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু এখন তাদের কোনও কিছুরই অভাব নেই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গ্রামের অনেকেই অনুকল্পকে 'ভাল মানুষ' হিসেবে অভিহিত করতে চাননি।
অনুকল্প মিশ্রের দাদা রাজেন্দ্র প্রসাদ মিশ্র পুলিশকে জানান যে, তাঁদের বাবা একজন প্রপার্টি ডিলার হিসেবে কাজ করেন। তিনি অন্য জায়গায় থাকেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ আরও জানান, গত ৩০ এপ্রিল তাঁর নাতি গ্রামে সাত দিনব্যাপী এক বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে ধর্মকথা প্রচারের জন্য একজন ধর্মীয় বক্তাকে আনা হয়েছিল। দাদা দাবি করেন যে ওই অনুষ্ঠানে অনুকল্পের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিল, কিন্তু মন্দির চুরির ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
অনুষ্ঠানটিতে বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে রাম মন্দির ট্রাস্টের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই অন্যতম। চম্পতকে অনুকল্প মিশ্রের সঙ্গে ছবিতে দেখা গিয়েছে। এছাড়া অযোধ্যার মেয়র এবং জেলা পঞ্চায়েত সভাপতির প্রতিনিধিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এত বড় একটি অনুষ্ঠানের জন্য অর্থের উৎস কী ছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন যে, অনুকল্প মিশ্র সম্প্রতি গ্রামের কাছে একটি ফার্মহাউস তৈরি করেছেন। এছাড়া জানা গিয়েছে, গত বছর তিনি অযোধ্যায় একটি বাড়ি কিনেছিলেন, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা। প্রতিবেশীরা আরও জানান যে, তাঁর নিজের একটি গাড়ি আগে থেকেই ছিল এবং তিনি একটি 'স্করপিও' এসইউভি কেনার জন্য বুকিং প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন।
একটি ব্যাঙ্কের আউটসোর্সিং বিভাগে কর্মরত অনুকল্প মিশ্র প্রায় তিন বছর আগে মন্দিরটির দান-অনুদান গণনার দলে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর তিনি ব্যাঙ্কের ওই আউটসোর্সিং এজেন্সির মাধ্যমেই তাঁর শ্যালক লাভকুশ মিশ্রকেও একই কাজে নিয়োগের ব্যবস্থা করে দেন।
প্রতিবেশীদের মতে, অযোধ্যার রুদাউলি এলাকার বাসিন্দা লাভকুশ একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। সম্প্রতি তিনি এক লক্ষ টাকারও বেশি দামের একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন।
চুরির এই ঘটনায় অর্থের উৎস বা লেনদেনের সূত্র খুঁজে বের করতে পুলিশ এখন অভিযুক্ত আটজনেরই সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার বিষয়ে তদন্ত করছে।















