আজকাল ওয়েহবডেস্ক: গত ১৬ই মার্চ সকালে রাজস্থানের নাগৌর জেলার পালদি কালান গ্রামের বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ৭৫ বছরের নাথি দেবী বাউরি। গবাদি পশুর জন্য পশুখাদ্যের ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন বৃদ্ধা। তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেই সময় নাথি দেবী বাউরি প্রায় সাত লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও রুপোর গয়না পরেছিলেন।

বিকেল গড়ি্য়ে সন্ধে নামলেও আর বাড়ি ফেরেননি বৃদ্ধা। স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন ৭৫ বছরের নাথি দেবী বাউরি আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা। গ্রামে এবং আশেপাশের ক্ষেত-খামারে তাঁর খোঁজ শুরু করেন তারা। সারা রাত ধরে খোঁজাখুঁজির পরেও যখন কোনও হদিস পাওয়া যায়নি, তখন পরিবারের দুশ্চিন্তা আরও বাড়তে থাকে।

পরদিন, অর্থাৎ ১৭ই মার্চ, পাচরান্দা গ্রামের কাছে ঝোপঝাড়ের আড়ালে পড়ে থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা গ্রামবাসীদের নজরে আসে। বস্তাটি খুলে তাঁরা এক বৃদ্ধার ক্ষতবিক্ষত দেহ দেখতে পান। দেহটির মাথা ও পা আলাদা করা ছিল। এছাড়াও দেহ থেকে সমস্ত গয়না খুলে নেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তীতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, বৃদ্ধার গলা ও পা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে আলাদা করা হয়েছিল।

দেহের যে অবস্থা ছিল, তা দেখে মনে হচ্ছিল—হত্যাকারী বা হত্যাকারীরা বৃদ্ধার পরিচয় গোপন করার বা শনাক্তকরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। দেহটিকে টুকরো টুকরো করে কেটে বস্তাবন্দি করা হয়েছিল এবং পরে একটি নির্জন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং তদন্ত শুরু করে। ঘটনার কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিল না।

নাগৌরের পুলিশ সুপার রোশন মিনার তত্ত্বাবধানে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, ডগ স্কোয়াড এবং ড্রোন ইউনিট-সহ পুলিশের একাধিক দল তদন্তকাজে মোতায়েন করা হয়। ঘটনাস্থলের অদূরে পড়ে থাকা একটি চটি বা স্যান্ডেল ছিল তদন্তকারীদের হাতে আসা প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। এই সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা স্থানীয় এক জনকে সন্দেহ করেন। তদন্ত চলাকালীন গ্রামেরই একটি বাড়িতে রক্তের দাগ খুঁজে পায় পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, ওই বাড়িতেই হবৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছিল।

এছাড়া, বৃদ্ধা নিখোঁজ হওয়ার সময়ের আশপাশের এলাকায় কাদের আনাগোনা ছিল তা শনাক্ত করছে পুলিশ। সেই জন্য ৩০০-রও বেশি মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ডেটা বা অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার কাজ চলছে।

গত ২০শে মার্চ পুলিশ ৩৮ বছর বয়সী মুকেশ ভারতীকে গ্রেপ্তার করেছে। সে ছিল নিহত বৃদ্ধারই প্রতিবেশী।

চুরি যাওয়া গয়না এবং অপরাধে ব্যবহার করা অস্ত্রটিও (সম্ভবত একটি কুড়ুল বা লোহার রড) পুলিশ উদ্ধার করেছে।

পুলিশের মতে, বৃদ্ধা তাঁর গবাদি পশুর পশুখাদ্যের খোঁজে মুকেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, সেখানেই মুকেশ বৃদ্ধার ওপর হামলা চালায়, তাঁকে হত্যা করে এবং পরবর্তীতে তাঁর দেহটি টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে। এরপর অভিযুক্ত বৃদ্ধার দেহের খণ্ডগুলো তিনটি বস্তায় ভরে নিজের গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়।

অপরাধের ধরন ও নৃশংসতা বিবেচনা করে পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে যে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না। প্রায় ৩০ বিঘা জমি সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য বিরোধের বিষয়েও তথ্য সামনে এসেছে, যদিও ডাকাতিকেই ঘটনার মূল উদ্দেশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃদ্ধার বাড়িতে তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার শোক সামলে উঠতে হিমশিম খাচ্ছেন। পরিবারের অনেক সদস্যই দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল।
পরিবারের সদস্যরা বিক্ষোভ দেখান এবং লাশের সবকটি অংশ উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে অস্বীকার করেন। পরবর্তীতে আরও তল্লাশির পর লাশের কিছু অবশিষ্ট অংশ খুঁজে পাওয়া যায়, তারপরই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়।

শেষে পুলিশের সঙ্গে দেগানা এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।