আবু হায়াত বিশ্বাস
দেশের কৃষকদের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে ভারতে দরজা খুলে দেওয়া হচ্ছে আমেরিকাকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশকে বেঁচে দিয়েছেন। দেশের অন্নদাতাদের পাশে দাঁড়িয়ে মোদি সরকারকে এবার কড়া বার্তা দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
বৃহস্পতিবার রাহুল এক ভিডিও বার্তায় সাফ জানিয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হোক কিংবা মামলা হোক, প্রিভিলেজ মোশন আনুক না কেন সরকার, কৃষকদের অধিকারের জন্য তিনি লড়াই জারি রাখবেন।
এক পা পিছু হঠবেন না। কৃষক বিরোধী কোনও পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কংগ্রেস আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই রাহুলের সাংসদপদ খারিজের দাবি তুলে নোটিস দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে।
‘সাবস্ট্যানটিভ মোশন’ নোটিস দিয়েছেন তিনি। দুবের দাবি, ভারতবিরোধী শক্তিগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে রাহুলের। তার সারাজীবনের জন্য ভোটে লড়ার অধিকার কেড়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন বিজেপি সাংসদ।
এদিন বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে এক ভিডিও বার্তায় কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যে কোনও বাণিজ্য চুক্তি যদি কৃষকদের রুজি-রুটি কেড়ে নেয় বা দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে দুর্বল করে, তবে তা কৃষক-বিরোধী।
তাঁর কথায়, অন্নদাতাদের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস মেনে নেওয়া হবে না। রাহুল জানিয়েছেন, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ফলে দেশের অন্নদাতা কৃষকদের রুটি-রুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
খাদ্য সুরক্ষাকে দূর্বল করা হচ্ছে। এটা কৃষক বিরোধী পদক্ষেপ ছাড়া অন্য কিছু নয়। মোদি সরকারকে নিশানা করে রাহুলের স্পষ্ট বার্তা, 'দেশের অন্নদাতা কৃষদের স্বার্থ- বিরোধী মোদি সরকারকে আপস করতে দেব না।'
বিরোধী দলনেতা বুধবার বাজেট ভাষণে মোদি সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। ভারত–আমেরিকা অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে লোকসভায় তীব্র আক্রমণ করে অভিযোগ করেন, এই চুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রের মোদি সরকার ভারত মাতাকে বিক্রি করে দিয়েছে। এবং এটি একপ্রকার ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’।
তাঁর দাবি, চুক্তির ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাহুল দাবি করেছিলেন, দেশের কৃষিক্ষেত্রে এই চুক্তির বিরূপ প্রভাব পড়বে। তাঁর কথায়, হাজার হাজার একর জুড়ে যান্ত্রিক মার্কিন খামারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতীয় ক্ষুদ্র কৃষকরা টিকতে পারবেন না।
বাজেট ভাষণে রাহুল অভিযোগ করেন, টেক্সটাইল শিল্প ও ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মোদি সরকারকে নিশানা করে রাহুল বলেন, ‘এটা শুধু প্রধানমন্ত্রীর আত্মসমর্পণ নয়, ১৫০ কোটির ভবিষ্যৎ আত্মসমর্পণ। দেশের তথ্য, কৃষক, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও জ্বালানি নিরাপত্তা—সবকিছুই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।’
