আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে প্রকাশ্যে আসা নথিপত্রে নিজের নাম উঠে আসার প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদে প্রশ্ন তোলার পর তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল “ইঙ্গিতের রাজনীতি” করছেন এবং তাঁর মন্তব্যে “ভাঁড়ামির ছাপ” রয়েছে। এমনকি সরাসরি বলেন, “ওঁর বড় হওয়া দরকার।”
ইন্ডিয়া টুডে-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে পুরী জানান, এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক নথির মধ্যে মাত্র দু’টি ইমেলে তাঁর নাম রয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিষয়টির প্রেক্ষাপট তিনি ব্যক্তিগতভাবে রাহুল গান্ধীকে জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “যদি উনি নোটটা পড়তেন, তাহলে সংসদে নিজেকে হাস্যকর অবস্থায় ফেলতেন না।”
পুরীর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা প্রমাণভিত্তিক আলোচনা না করে ‘ইঙ্গিত ছুড়ে পালানো’ ধরনের রাজনীতি করছেন। “আপনি যদি কোনও বিষয় তুলতে চান, তবে গবেষণা করুন, অন্য পক্ষকে জবাব দেওয়ার সুযোগ দিন। উনি একটা কথা বলেন আর তারপর সরে যান। সংসদ হল জ্ঞানভিত্তিক অংশগ্রহণের জায়গা, ইঙ্গিতের নয়,” বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এটা এপস্টেইনের গল্প নয়, এটা পরিপক্বতার অভাবের গল্প। যিনি ইঙ্গিতের রাজনীতি করেন এবং ‘স্পিট অ্যান্ড ফ্লাই’ পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তিনি এখনও বড় হননি।” এমনকি সিভিল সার্ভিসে কর্মদক্ষতা না থাকলে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার বিধানের প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ করেন পুরী।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে রাহুল গান্ধীর সমালোচনারও জবাব দেন পুরী। রাহুল এই চুক্তিকে “সর্বাত্মক আত্মসমর্পণ” এবং “ভারতমাতাকে বিক্রি” বলে অভিহিত করেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পুরী বলেন, “ভারত ভাল করছে বলেই উনি ঈর্ষান্বিত। কারণ তিনি দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষায় বিশ্বাস করেন না।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর মন্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আত্মসমর্পণ করেছেন—এমন অভিযোগ করার মতো সাহসী কেউ এখনও জন্মায়নি।”
এপস্টেইন-যোগ প্রসঙ্গে পুরী জানান, ২০০৯ সালের মে মাস থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক শান্তি সংস্থার একটি প্রকল্প ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কমিশন ফর মাল্টিল্যাটারালিজম’ (ICM)-এর মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ওই সূত্রেই আট বছরে চারবার এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয় বলে দাবি করেন তিনি। “সরকারি দায়িত্বে প্রতি বছর শত শত মানুষের সঙ্গে দেখা করেছি,” বলেন পুরী।
তিনি আরও দাবি করেন, একটি বৈঠকে তাঁকে কার্যত ‘অ্যামবুশ’ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল প্রতিনিধি দলের অংশ হিসেবে। পরে এপস্টেইন সম্পর্কে গুরুতর অভিযোগ স্পষ্ট হলে তিনি এবং অন্যরা দূরত্ব বজায় রাখেন। সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত একটি ইমেল প্রসঙ্গে পুরীর বক্তব্য, সেখানে ভারতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং লিঙ্কডইনের প্রতিষ্ঠাতা রিড হফম্যানকে ভারতীয় ভাষায় সম্প্রসারণ নিয়ে পরামর্শের আলোচনা ছিল। এতে কোনও অনৈতিক বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইঙ্গিত নেই বলেই তাঁর দাবি।
মন্ত্রীর অভিযোগ, এই তথ্য বহু মাস ধরেই প্রকাশ্যে রয়েছে। তা সত্ত্বেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য না খতিয়ে দেখেই রাহুল গান্ধী সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক মহলে অবশ্য এই বাকযুদ্ধ নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে, প্রশ্ন উঠছে, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে কি বিষয়টি আরও বিশদ আলোচনার দাবি রাখে, নাকি এটি কেবল রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণেরই অংশ।
