আজকাল ওয়েবডেস্ক: স্ত্রীকে নৃশংসভাবে খুন। কুড়ুল দিয়ে কোপানোর সময় সেই ঘটনা ক্যামেরাবন্দি করেন যুবক। স্ত্রীকে খুনের পর সেই ভিডিওটি শেয়ার করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। এরপর থানায় পৌঁছে আত্মসমর্পণ যুবকের। যে ঘটনায় আঁতকে উঠেছে পুলিশ। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে পাঞ্জাবে। বুধবার পুলিশ জানিয়েছে, সাঙ্গরুর জেলায় স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করেছেন স্বামী। এরপর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন। ধৃত যুবকের নাম, কুলদীপ সিং। প্রাক্তন গ্রাম প্রধানের ছেলে তিনি। মঙ্গলবার বেধড়ক মেরে, কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে স্ত্রী হরকীর্তন কৌরকে খুন করেন তিনি। এরপর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। 

পুলিশ আধিকারিক আরও জানিয়েছেন, স্ত্রীকে লাগাতার হেনস্থা করতেন যুবক। সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অতীতেও শেয়ার করেছেন। স্ত্রীকে খুনের পরেও ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। এরপর থানায় পৌঁছে খুনের ঘটনাটি স্বীকার করেন। কুলদীপকে তখনই গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীর দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। 

হরকীর্তনের তিন ছেলেমেয়ে। ১০ ও ৮ বছরের দুই মেয়ে এবং ছ'বছরের এক ছেলে রয়েছে। কী কারণে স্ত্রীকে খুন করেছেন কুলদীপ, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওটি খতিয়ে দেখছে তারা। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওতে দেখা গেছে, একাধিকবার তিনি কুড়ুল দিয়ে আঘাত করছেন স্ত্রীকে। ভিডিওর শুরুতেও প্রাণে বেঁচেছিলেন স্ত্রী। এরপর ঘাড়ে আঘাত করতেই লুটিয়ে পড়েন স্ত্রী। ভিডিওতে পাঞ্জাবিতেই ধৃত যুবক বলেন, 'আমি স্ত্রীকে খুন করেছি।' 

গত মাসের শেষেও এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। নিত্যদিন দাম্পত্য কলহ। অশান্তির জেরে জীবন জেরবার। কখনও আবদারের জন্য, কখনও বা সন্দেহের বশে। তিতিবিরক্ত হয়ে স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করেন স্বামী। ধামাচাপা দিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের রাজকোটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, স্ত্রীকে নির্মমভাবে খুন করেন তাঁর স্বামী। খুনের পর গল্প ফেঁদে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পুলিশকে আগে জানিয়েছিলেন, ফুচকা খেতে গিয়েই নিখোঁজ হয়ে যান স্ত্রী। 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, সেদিন এক যুবতীর দেহ উদ্ধার করে তারা। নিথর দেহের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। দেহটি শনাক্তকরণের পর জানা যায়, ৩৩ বছরের বধূ স্নেহাবেন আসোদিয়া তিনি। হিতেশ আসোদিয়ার স্ত্রী ছিলেন তিনি। দু'জনেই রাজকোটের বাসিন্দা ছিলেন। দেহ উদ্ধারের পরেই স্বামীকে সন্দেহ করে পুলিশ। 

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, স্নেহাবেনের সঙ্গে নিত্যদিন অশান্তি হত হিতেশের। সন্দেহের বশে স্বামীর সঙ্গে ঝামেলা করতেন স্নেহাবেন। যা থেকে কথা কাটাকাটি ও অশান্তি লেগেই থাকত। প্রথমে নিখোঁজের গল্প বললেও, পরে স্বীকার করে নেন, স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে খুন করেছেন তিনি। 

তিন বছর আগে হিতেশ ও স্নেহাবেনের বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই তুমুল দাম্পত্য কলহ জীবন জেরবার করে তোলে। কাজে যখন হিতেশ ব্যস্ত থাকতেন, তখন সন্দেহের বশে বারবার ফোন করে বিরক্ত করতেন স্ত্রী। ফোন না ধরলেই অশান্তি শুরু হত। কারখানায় কাজ করতেন হিতেশ। কাজের চাপ, দাম্পত্য কলহের জেরে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল তাঁর। 

দম্পতির দুই বছরের এক ছেলেও আছে। শনিবার সন্ধ্যায় হিতেশকে ফোন করে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার আবদার করেছিলেন স্নেহাবেন। তখন আবারও ঝামেলা হয় তাঁদের। রাগের মাথায় কারখানা থেকে লোহার রড তুলেই বাড়ির দিকে রওনা দেন। এরপর স্নেহাবেনকে নিয়ে নির্জন এলাকায় চলে যান। সেখানেই স্ত্রীকে লোহার রড দিয়ে মেরে খুন করে পালিয়ে যান। ঘাতক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।