আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। ততই বিশ্বজুড়ে তীব্র হচ্ছে জ্বালানি সঙ্কট। এই পরিস্থিতিতে রবিবার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৈঠকে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, পেট্রোলিয়াম পণ্য, বিদ্যুৎ ও সার সরবরাহের বিষয়গুলি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখেন তিনি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, দেশের সর্বত্র নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ, স্থিতিশীল লজিস্টিক ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি পৌঁছয় তা নিশ্চিত করাই ছিল এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য।

বৈঠকে মোদি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব সহ একাধিক শীর্ষ নেতৃত্ব।

উপস্থিত ছিলেন বন্দর ও জাহাজ চলাচলমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, বিদ্যুৎমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টর, খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী, বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইড়ু, পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পি কে মিশ্র ও শক্তিকান্ত দাস।

সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া সঙ্কটের মোকাবিলায় সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। যাতে পেট্রোলিয়াম পণ্য-সহ প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে।

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য, শান্তি ও জনসচেতনতা জরুরি।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকার ক্রমাগত কাজ করে চলেছে বলেও তিনি জানান। প্রসঙ্গত, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের উপর হামলার পর এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়।

পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে হামলা চালায়। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার, বাহরিন, কুয়েত, জর্ডন, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, ইজরায়েল ও ইরানের রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

৪৮ ঘন্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে ইরামকে ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পাল্টা জবাবে থেহরান জানিয়ে দিল, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি অবরুদ্ধ নয়।

বিদেশি জাহাজগুলো এখনও এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে তবে, ইজরায়েল, আমেরিকা এবং তাদের 'বন্ধু' রাষ্ট্রগুলোর জন্য ওই সমুদ্রপথ বন্ধ। 

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) কাছে ইরানের প্রতিনিধি আলি মুসাভি বলেছেন, "বিদেশি জাহাজগুলো এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারে। তবে শর্ত হল, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে তাদের তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে হবে।"

ব্রিটেনে নিযুক্ত ইরানের দূত হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় মুসাভি জোর দিয়ে বলেন যে, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এ ধরনের সমন্বয় অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিধিবিধানের পাশাপাশি ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও বজায় রাখতে হবে।

পাশাপাশি, এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে এবং নাবিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইরান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।