আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে ব্যর্থ মোদি সরকার। লোকসভার আসন বৃদ্ধি করে মহিলা সংরক্ষণ বিল কার্যকর করতে চেয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু শেষমেশ ভোটাভুটির পর তা সম্ভব হয়নি। আর তার পরই হতাশার সুর প্রধানমন্ত্রীর গলায়। একইসঙ্গে বিরোধীদের হুঁশিয়ারিও দিলেন তিনি। 


শনিবার দিল্লিতে লোকসভার 'ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি' (সিসিএস)-এর বৈঠক ছিল। সেখানেই প্রধানমন্ত্রী ১৩১ তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ না হওয়া নিয়ে আফশোস করেন।হুঙ্কার ছেড়ে বলেন, "বিরোধীরা বিল পাশের বিরোধিতা করে বড় ভুল করেছে। এ জন্য আজীবন আক্ষেপ করবেন তাঁরা।" শুধু এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরও বলেন, "বিলের বিরোধিতার জন্য মূল্য চোকাতে হবে বিরোধীদের। আমরা দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে তাঁদের নারীবিরোধী মনোভাবের কথা প্রচার করব।" তিনি জানান, যতই বিরোধী দলগুলি এই বিল পাশের বিরোধিতার জন্য নানা যুক্তি সাজাক, আসলে তা তাঁদের সঙ্কীর্ণ মনোভাবকেই জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে।


প্রসঙ্গত, শুক্রবার মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভোটাভুটি পাশ করাতে পারেনি সরকার। মোট ৫২৮ জন সাংসদ ভোট দিয়েছিলেন এদিন। ভোটাভুটিতে দেখা যায়, বিলের পক্ষে ২৯৮টি  এবং বিপক্ষে ২৩০টি ভোট পড়েছে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে প্রয়োজন ছিল ৩২৬টি ভোটের। যা জোগাড় করতে ব্যর্থ হন মোদি-‌শাহরা। ভোটাভুটিতে বিলটি পাশ করাতে না পারায় সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সংশ্লিষ্ঠ বিলটি নিয়ে আর না এগোনোর কথা জানিয়েছেন। এবং এই বিলগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 


বিরোধী শিবির ঐক্যবদ্ধ হওয়ায় সরকার পক্ষ চাইলেও সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিলটি পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিন বিরোধীদের নিশানা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মহিলাদের সংরক্ষণের বিরোধী বলে দাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সেই সঙ্গে জনসংখ্যা বৃদ্ধির যুক্তি দিয়ে সংসদ সংখ্যা বাড়ানোর জোরদার সওয়ালও করেন।


বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের পেশ করা তিনটি বিলের প্রথমটি— লোকসভা এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল ( পোশাকি নাম, ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। লোকসভার সাংসদ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮৫০ করার বিষয়টি এরই অন্তর্গত), দ্বিতীয়টি— লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল। তৃতীয়টি— কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল (কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে আসনবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে)। এই তিন বিলই এদিন ভোটাভুটিতে খারিজ হয়ে যায়।


উল্লেখ্য, লোকসভায় বিলটি পাশ না হওয়ার পরে রাহুল অভিষেককে ফোন করে বিলটিকে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। অভিষেককে রাহুল বলেন, নির্বাচন সত্ত্বেও, ভোটের জন্য সংসদে সাংসদদের পাঠানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।