আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামান্য কয়েক হাজার টাকার পেট্রোল নিয়ে বচসা। আর সেই বচসার জেরে প্রাণ গেল এক তরতাজা তরুণের। পেট্রোল পাম্প কর্মীর হাত গাড়ির জানলায় আটকে দিয়ে কয়েকশো মিটার রাস্তা টেনে নিয়ে গেল গাড়ি। বুধবার ভোরে ইন্দোরের সানওয়ের এলাকায় এই নৃশংস ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত কর্মীর নাম রোহিত পারমার (২২)।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার ভোর ৪টে নাগাদ একটি গাড়ি পাম্পে এসে ৪ হাজার টাকার পেট্রোল ভরে। কিন্তু টাকা দেওয়ার সময় হলেই বেঁকে বসেন চালক। দাম না মিটিয়েই গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। রোহিত বাধা দিতে গেলে তাঁর হাতটি গাড়ির জানলায় আটকে দিয়ে কাঁচ তুলে দেওয়া হয়। ওই অবস্থাতেই গাড়ির গতি বাড়িয়ে দেন চালক। অনেকটা রাস্তা হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার ফলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই যুবকের।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, "সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে গাড়িটি উজ্জয়িনীর দিকে পালিয়েছে। তবে নম্বর প্লেটটি স্পষ্ট না হওয়ায় অভিযুক্ত চালক ও গাড়িটিকে চিহ্নিত করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।" প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গাড়িতে চালক ছাড়াও আরও চার-পাঁচ জন ছিল।

এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ ইতিমধ্যেই অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা রুজু করে তল্লাশি শুরু করেছে।

অন্যদিকে, ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের ঝক্কির শেষ নেই৷ অথচ এর জেরেই প্রাণে বাঁচলেন এক প্রৌঢ়া। উত্তরপ্রদেশে এই মিরাকেল ঘটেছে। বেরিলি-হরিদ্বার ৭৪ নম্বর জাতীয় সড়কের একটি গর্তের ধাক্কায় কার্যত ‘মৃত’ অবস্থা থেকে বেঁচে ফিরলেন ৫০ বছর বয়সি বিনীতা শুক্ল। চিকিৎসকেরা যাঁকে হাল ছেড়ে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি এখন সুস্থ হয়ে কথা বলছেন পরিবারের সঙ্গে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পিলভিটের বাসিন্দা বিনীতাদেবী বাড়িতে কাজ করার সময় হঠাৎই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে বেরিলির একটি বড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন, তাঁর শরীরে কোনওরকম হৃদস্পন্দন নেই। ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করে তাঁকে বাড়ি নিয়ে যেতে বলা হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনীতার স্বামী কুলদীপ শুক্লা যখন অ্যাম্বুল্যান্সে করে স্ত্রীকে নিয়ে ফিরছিলেন, তখন অন্যদিকে পরিজনেরা বাড়িতে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু মাঝপথেই ঘটনার অন্য মোড় নেয়। 

জানা গিয়েছে, হাফিজগঞ্জের কাছে রাস্তার একটি বড় গর্তে অ্যাম্বুল্যান্সটি সজোরে ধাক্কা খায়। সেই তীব্র ঝাঁকুনিতেই  আশ্চর্য ঘটনা ঘটে! কুলদীপ দেখেন, তাঁর স্ত্রী হঠাৎই শ্বাস নিতে শুরু করেছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাড়িতে ফোন করে শেষকৃত্যের আয়োজন বন্ধ করতে বলেন।

পিলভিটের নিউরোসিটি হাসপাতালে বিনীতাকে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা অবাক হয়ে যান। নিউরোসার্জন চিকিৎসক রাকেশ সিং জানান, আগের হাসপাতালের রিপোর্টে বিনীতার ‘গ্লাসগো কোমা স্কেল’ ছিল মাত্র ৩ (স্বাভাবিক মান ১৫)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি সাধারণত গভীর সংজ্ঞাহীনতার প্রমাণ। 

এদিন মাঝরাস্তায় প্রবল ঝাঁকুনির পর তাঁকে পুনরায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসা করার পর  দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন বিনীতা। পরিবার সূত্রে খবর, গত সোমবার সুস্থ শরীরে বাড়ি ফিরেছেন বিনীতা। একদিকে রাস্তার গর্ত নিয়ে যেখানে মানুষের ক্ষোভ ও চিন্তার শেষ নেই, সেই গর্তই এখন শুক্লা পরিবারের কাছে হয়ে উঠল 'সেভিয়ার'।