আজকাল ওয়েবডেস্ক: ছত্তিশগড়ে নিরাপত্তা বাহিনী নকশালবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। গত দু’বছরে সুকমা জেলায় সাম্প্রতিক একটি সংঘর্ষে তিনজন-সহ মোট ৫০৩ জন মাওবাদীকে এনকাউন্টার করেছে। নকশালবাদ নির্মূলের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ২০২৬ সালের মার্চ মাসের সময়সীমার পর এই অভিযান তীব্রতর হয়েছে এবং নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনটি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। এই অভিযানগুলির ফলে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসনের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যা প্রমাণ করে যে এই অঞ্চলে মাওবাদী প্রভাব ক্রমশ দুর্বল হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ছত্তিশগড়ের সুকমা জেলায় এক অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী এক মহিলা-সহ তিন মাওবাদীকে হত্যা করেছে। জেলা রিজার্ভ গার্ড (ডিআরজি)-এর নেতৃত্বে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গোলাপল্লি থানা এলাকার বনাঞ্চলে এই সংঘর্ষটি ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং আর কোনও মাওবাদী অবশিষ্ট রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত দুই বছরে ছত্তিশগড়ে ৫০৩ জন মাওবাদীকে নির্মূল করা হয়েছে। এই বছর শুধু  ২৮৪ জন মাওবাদী নিহত হয়েছে, যার মধ্যে বস্তার অঞ্চলেই ২৫৫ জন নিহত হয়েছে। গত বছর রাজ্যটিতে ২১৯ জন মাওবাদী নিহত হয়েছিল। যার মধ্যে বস্তার অঞ্চলেই ২১৭ জন। বস্তার অঞ্চলটি এই অভিযানগুলির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা এখানেই ঘটেছে। এই অভিযানটি ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নকশালবাদ নির্মূল করার জন্য অমিত শাহের নির্দেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সিপিআই (মাওবাদী)-এর সংগঠন গুরুতর ধাক্কা খেয়েছে। কারণ দলের সাধারণ সম্পাদক নাম্বালা কেশব রাও ওরফে বাসবরাজু এবং সামরিক নেতা মাদভি হিদমাসহ নয়জন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এনকাউন্টারে নিহত হয়েছেন। সংগঠনটিতে অবশিষ্ট তিনজন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেন ওড়িশা-ভিত্তিক গণেশ উইকে; ছত্তিশগড়-ভিত্তিক কিন্তু বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকা মাল্লারাজি রেড্ডি ওরফে সংগ্রাম; এবং ঝাড়খণ্ড-ভিত্তিক আনালদা ওরফে তুফান।

তিনজন পলিটব্যুরো সদস্যের মধ্যে থিপ্পারি তিরুপতি ওরফে দেবজি এবং প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক মুপাল্লা লক্ষ্মণরাও গণপতি ছত্তিশগড় থেকে পালিয়ে গিয়েছেন, আর মিশির বেসরা ওরফে ভাস্কর ঝাড়খণ্ডে রয়েছেন। পলিটব্যুরো সদস্য ভেনুগোপাল রাও ওরফে সোনু এবং পুল্লুরি প্রসাদ রাও ওরফে চন্দ্রান্না পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। যার ফলে রাজ্যে সংগঠনটি ‘নেতৃত্বহীন’ হয়ে পড়েছে। এই ক্ষতিগুলি তাদের কমান্ড কাঠামোকে ব্যাহত করেছে এবং তাদের কার্যক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে।

‘পুনা মার্গেম’ এবং ‘মাড় বাঁচাও অভিযান’-এর মতো সরকারি উদ্যোগগুলি মাওবাদী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণে উৎসাহিত করেছে। যার ফলে ২০২৫ সালে শুধু নারায়ণপুর জেলাতেই ২৯৮ জন আত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমর্পণকারী প্রত্যেক মাওবাদী ৫০ হাজার টাকা পেয়েছেন এবং ছত্তিশগড় সরকারের পুনর্বাসন নীতি থেকেও তাঁরা উপকৃত হবেন। আত্মসমর্পণের সংখ্যা বৃদ্ধি মাওবাদীদের প্রভাবের অবক্ষয় এবং সরকারি প্রচেষ্টার প্রতি জনগণের আস্থাকেই তুলে ধরে।