আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে ‘এক দেশ, এক ভোট’ বাস্তবায়ন নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশন সংসদের যৌথ কমিটিকে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে, যদি ছয় মাস আগে থেকে প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়া হয়, তবে একইসঙ্গে লোকসভা ও সমস্ত রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। বুধবার লখনউয়ে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পি. পি. চৌধুরী।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে এখনও বিস্তারিত পরিকল্পনা শোনা বাকি রয়েছে। কমিশন কীভাবে একসঙ্গে দেশজুড়ে নির্বাচন পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে তাদের বক্তব্য শুনেই কমিটি চূড়ান্ত সুপারিশ করবে। তাঁর দাবি, যদি সংসদ ২০২৮ সালের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন পাশ করে, তাহলে ২০২৯ সাল থেকেই এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব বলে নির্বাচন কমিশন মত দিয়েছে।
পি. পি. চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ভাবনা হল এক দেশ এক ভোট। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর ১৯৫৪ থেকে ১৯৬০ সালের মধ্যে দেশে একইসঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তাই এই ব্যবস্থা নতুন নয়, বরং অতীতের একটি সফল মডেলের পুনরুজ্জীবন।
কমিটির সামনে হাজির হওয়া সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এক দেশ এক ভোট প্রস্তাব সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা বা গণতন্ত্রের পরিপন্থী নয়। এটি কেবলমাত্র নির্বাচনের সময়সূচিকে সমন্বিত করবে। রাজ্যগুলির সাংবিধানিক অধিকার বা ক্ষমতায় কোনও হস্তক্ষেপ হবে না।
চৌধুরীর দাবি, সাধারণ মানুষ ও নাগরিক সমাজের বড় অংশ এই প্রস্তাবকে সমর্থন করছে। তাঁর মতে, ঘন ঘন নির্বাচন হওয়ায় প্রশাসনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। বারবার নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ায় উন্নয়নমূলক প্রকল্প, কল্যাণমূলক কর্মসূচি এবং সরকারি পরিষেবা প্রায়ই বিলম্বিত হয়।
লখনউয়ে তিন দিনের বৈঠকে কমিটি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, আইআইএম লখনউ, আইআইআইটি কানপুর, এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য, অধ্যাপক ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করেছে। এছাড়া নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, পদ্ম পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
কমিটির বক্তব্য, সারা বছর বিভিন্ন রাজ্যে আলাদা আলাদা নির্বাচন হওয়ায় সরকারি অর্থের বিপুল অপচয় হয়, প্রশাসনিক কর্মীদের নিয়মিত দায়িত্ব ব্যাহত হয় এবং অর্থনীতির উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সব পক্ষের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য আইন তৈরির লক্ষ্যেই সংসদীয় কমিটি তাদের পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
















