মাত্র কয়েক মাস আগেও প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে লা নিনা (La Niña)-র প্রভাব ছিল। সাধারণত লা নিনা পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া তৈরি করে। কিন্তু সেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে গিয়েছে।
2
16
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, এল নিনো শুরু হয়েছে এবং ২০২৬-২৭ সালের উত্তর গোলার্ধের শীত পর্যন্ত এটি আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
3
16
NOAA-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই এল নিনো 'ভেরি স্ট্রং' বা অত্যন্ত শক্তিশালী পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ।
4
16
যদি সেই পূর্বাভাস সত্যি হয়, তবে এটি ১৯৫০ সালের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোগুলির মধ্যে একটি হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে পারে।
5
16
বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের শুরুতে লা নিনার প্রভাব থাকলেও কয়েক মাসের মধ্যেই শক্তিশালী এল নিনো তৈরি হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এত দ্রুত এই পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তন এবং অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।
6
16
এর পাশাপাশি উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ অংশে ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে একটি মেরিন হিটওয়েভ (Marine Heatwave) বা সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ দেখা দিয়েছে।
7
16
সমুদ্রের বিশাল অংশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ জলরাশি তৈরি হওয়ায় গবেষকরা খতিয়ে দেখছেন, এটি এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করছে কি না।
8
16
একইসঙ্গে এর প্রভাব সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, প্রবাল প্রাচীর এবং মৎস্যসম্পদের উপরও পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এই দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত নয়, তবে বিজ্ঞানীদের মতে একসঙ্গে ঘটলে জলবায়ুর ওপর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
9
16
জলবায়ুবিজ্ঞানীর মতে, ২০২৬ সালের এল নিনো ১৯৯৭-৯৮ এবং ২০১৫-১৬ সালের ঐতিহাসিক এল নিনোকেও ছাপিয়ে যেতে পারে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ১৮৭৭ সালের পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং পঞ্চম শক্তিশালী এল নিনোর মধ্যে তাপমাত্রার পার্থক্য মাত্র ০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
10
16
অথচ ২০২৬ সালের সম্ভাব্য এল নিনো আগের রেকর্ডের তুলনায় প্রায় ০.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি শক্তিশালী হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই কারণেই 'সুপার এল নিনো' বা 'গডজিলা এল নিনো' শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হচ্ছে।
11
16
সাধারণভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে গেলে এই ধরনের এল নিনো হয়৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
12
16
পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় এল নিনোর অতিরিক্ত উষ্ণতার প্রভাব আরও বেশি অনুভূত হবে। ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা এবং অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের ঘটনা বাড়তে পারে।
13
16
এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগর সংলগ্ন অনেক এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে খরার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে।
14
16
উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রতিটি এল নিনোর প্রভাব একরকম হয় না এবং স্থানভেদে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
15
16
এল নিনোর উষ্ণতার প্রভাব সাধারণত কয়েক মাস পরে সর্বাধিক অনুভূত হয়। তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা, ২০২৭ সাল বিশ্বের ইতিহাসে অন্যতম উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারে। এর প্রভাব কৃষি উৎপাদন, পানীয় জলের প্রাপ্যতা, প্রবাল প্রাচীর, মৎস্যসম্পদ এবং খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে।
16
16
তবে এই পূর্বাভাস নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পূর্বাভাসেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবুও সম্ভাব্য শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার, কৃষি খাত, শিল্পক্ষেত্র এবং সাধারণ মানুষের এখন থেকেই প্রস্তুত থাকা জরুরি।