আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাস্তার ওপর দিয়ে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক প্রৌঢ়কে। তাঁর অপরাধ, পথ আটকে টাকা চেয়েও পায়নি দুষ্কৃতীরা। মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় এই শিউরে ওঠা নৃশংসতার শিকার হলেন ৬০ বছরের লক্ষ্মণ প্রজাপতি। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে সেমারিয়া গ্রামে নিজের সাইকেলে চেপে যাচ্ছিলেন লক্ষ্মণবাবু। পথে তিন যুবক তাঁর গতিরোধ করে টাকা চায়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় চরম অত্যাচার। অভিযোগ, তাঁকে গামছা দিয়ে একটি বাইকের পিছনে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর চলন্ত বাইক ছুটিয়ে বেশ কয়েক মিটার রাস্তা টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ঘর্ষণের ফলে তাঁর শরীরের অনেকটা অংশের চামড়া উঠে গিয়েছে।

রবিবার সকালে এই ঘটনার একটি ভিডিও নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে রেওয়া-সেমারিয়া রাস্তা অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রীতিমত তলানিতে ঠেকেছে।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্তে নামে রেওয়া পুলিশ। বিকাশ কপিশ নামে এক তদন্তকারী অফিসার জানান, কুন্নু সাকেত নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই সঙ্গী এখনও পলাতক। পুলিশি বয়ানে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে কেন এমন নৃশংসতা, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে জেরা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রৌঢ়ের অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। পুলিশের দাবি, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। এই নির্মম ঘটনার জেরে বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।