আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তর সিকিমের পর্যটকদের জন্য সুখবর। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্মুক্ত হলো লাচেন যাওয়ার পথ। ২০২৫ সালের জুনের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর থেকে এই রাস্তাটি বন্ধ ছিল। বর্তমানে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ায় পর্যটকদের জন্য পুনরায় 'পারমিট' বা অনুমতিপত্র দেওয়া শুরু হয়েছে।

২০২৫ সালের জুন মাসে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ধস নামার ফলে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছিল। একাধিক রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পাহাড়ি জনপদটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

লাচেন মূলত গুরুদংমার লেকের প্রবেশদ্বার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদটি ভারতের অন্যতম এবং পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণ। রাস্তা খোলায় এখন থেকে পর্যটকরা অনায়াসেই সেখানে পাড়ি দিতে পারবেন।

উত্তর সিকিমের জেলাশাসক অনন্ত জৈন জানিয়েছেন, চুংথাং থেকে লাচেন পর্যন্ত রাস্তায় একটি সেতুর নির্মাণকাজ বাকি থাকায় এতদিন যান চলাচল বন্ধ ছিল। সম্প্রতি ওই এলাকায় একটি ৪০০ ফুট দীর্ঘ নতুন সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। এর পরেই এই রুটে গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়।

তবে নিরাপত্তার খাতিরে সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন জেলাশাসক। তিনি বলেন, “সেতুগুলি সিঙ্গেল লেন, তাই নিরাপত্তার স্বার্থে ও কারিগরি কারণে এক সময়ে একটির বেশি গাড়ি সেতুতে উঠতে পারবে না। দুই দিক থেকে গাড়ি উঠলে বড়সড় বিপদের ঝুঁকি থেকে যায়।”

পাশাপাশি, চালকদের নির্দিষ্ট ভার বহন ক্ষমতা মেনে চলা এবং একটি গাড়ি সেতু পার হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান বজায় রেখে অন্য গাড়িটি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, পর্যটন দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট চেকপোস্টগুলোকে এই নতুন নির্দেশিকা সম্পর্কে অবগত করা হয়েছে। বর্তমানে ৯০ শতাংশ পারমিট ‘থার্ড মাইল’ অফিস থেকে অনলাইনের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পর্যটকদের সুবিধার্থে সেখান থেকেও অনুমতিপত্র প্রদান শুরু হয়েছে।

জেলাশাসক আরও স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমানে পর্যটকদের যাতায়াতের ওপর কোনও বিধিনিষেধ নেই। চুংথাং থেকে লাচেন এবং লাচুং যাওয়ার রাস্তা এখন যথেষ্ট ভালো অবস্থায় রয়েছে, তাই নিয়ম মেনে পারমিট নিয়ে যে কেউ ভ্রমণ করতে পারেন।