আজকাল ওয়েবডেস্ক: ই২০ পেট্রোল ব্যবহার করলে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হয় কিংবা মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়—এই দাবির সপক্ষে কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে লোকসভায় স্পষ্ট জানিয়েছে কেন্দ্র। সম্প্রতি এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি জানান, দীর্ঘদিনের গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের পরেই এই ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি বাজারে আনা হয়েছে।
লোকসভায় মন্ত্রী জানান, ইন্ডিয়ান ওয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL), ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব পেট্রোলিয়াম (IIP), সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM) এবং অটোমোটিভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া (ARAI)—এই চার সংস্থা যৌথভাবে দুই ও চার চাকার গাড়িতে ই২০ জ্বালানির প্রভাব নিয়ে বছরের পর বছর ধরে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছে। এই গবেষণার ফলাফলে স্পষ্ট যে, ই২০ পেট্রোলের কারণে গাড়ির ইঞ্জিনের স্থায়িত্ব, স্থায়িত্বশীল দক্ষতা কিংবা বিএস-৬ নির্গমন মানে কোনও প্রতিকূল প্রভাব পড়ে না। এমনকি পুরনো প্রজন্মের বিএস-৬ গাড়িগুলোতেও এটি ব্যবহারে পারফরম্যান্স বা স্টার্ট নেওয়ার ক্ষমতায় কোনো অস্বাভাবিক হেরফের দেখা যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লি ট্যাক্সি অ্যান্ড ট্যুরিস্ট ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন ইথানল-মিশ্রণ নীতির প্রতিবাদে আগামী ৪ আগস্ট সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে। ঠিক এমন এক আবহে কেন্দ্রের এই বিশদ ব্যাখ্যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্র জানিয়েছে, নীতি আয়োগের অধীনে গঠিত আন্তঃমন্ত্রক কমিটির রোডম্যাপ অনুযায়ী ধাপে ধাপে ইথানল মিশ্রণ বাড়ানো হয়েছে। পার্টসের সামঞ্জস্যতা, ইঞ্জিন ক্যালিব্রেশন, জ্বালানি ব্যবস্থা, স্থায়িত্ব এবং নির্গমন পরীক্ষা করে দেখার পরই দেশজুড়ে ই২০ জ্বালানি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, আধুনিক কার বা মোটরবাইকে ই২০ পেট্রোল ব্যবহারের জন্য ইঞ্জিনে কোনও ধরনের পরিবর্তন বা মোডিফিকেশনের প্রয়োজন হয় না। তবে ২০০৫ সালের এপ্রিল থেকে চালু হওয়া বিএস-৩ ক্যাটাগরির কিছু গাড়ি এবং ২০১৬ সালের আগে তৈরি কয়েকটি নির্দিষ্ট মডেলে নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের সময় কিছু রাবার পার্টস বা গ্যাস্কেট পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতে পারে। এটি গাড়ির স্বাভাবিক রক্ষণাবেক্ষণের অংশ এবং একে কোনো বড় যান্ত্রিক ত্রুটি হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
মাইলেজ কমে যাওয়া সংক্রান্ত উদ্বেগের জবাবে কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে যে, গাড়ির মাইলেজ কেবল জ্বালানির ওপর নির্ভর করে না। ড্রাইভিং অভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত সার্ভিসিং, সময়মতো ইঞ্জিন অয়েল বদলানো, এয়ার ফিল্টারের পরিচ্ছন্নতা, সঠিক টায়ার প্রেশার, হুইল অ্যালাইনমেন্ট এবং এসি ব্যবহারের মতো বহুবিধ বিষয় মাইলেজের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা পালন করে।
অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সংগঠন 'সিয়াম'-এর তথ্যের ভিত্তিতে সরকার জানিয়েছে যে, ই২০ পেট্রোলের কারণে ইঞ্জিন বিকল হওয়া বা ব্যাপক গাড়ি ভাঙনের কোনও প্রমাণিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মূলত সোশ্যাল মিডিয়া ও জনপরিসরে চলা নানা আলোচনার মাধ্যমেই এই সংক্রান্ত ভীতি তৈরি হয়েছে, যার পেছনে কোনো নথিভুক্ত কারিগরি প্রমাণের অস্তিত্ব নেই। ২০০১ সালে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু হওয়া এই ইথানল ব্লেন্ডিং প্রোগ্রাম বৈজ্ঞানিক কাঠামোর মধ্য দিয়েই কার্যকর করা হচ্ছে এবং দেশের বর্তমান আধুনিক যানবাহনের জন্য এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার।
















