আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২০ সালে মোদি সরকার যখন 'কাউপ্যাথি' বা দেশি গরুর পঞ্চগব্য নিয়ে গবেষণার জন্য ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল, তখন অনেকেই ভুরু কুঁচকেছিলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির আধুনিক যুগে এই ধরনের গবেষণা কতখানি যৌক্তিক, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সাধারণ মানুষের মনে। কিন্তু সম্প্রতি সেই বরাদ্দের ফল হাতেনাতে মিলতে শুরু করেছে। দেশের প্রথম সারির আইআইটি (IIT) গবেষকরা এবার তাঁদের গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন, যা বিজ্ঞান মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

'দি প্রিন্ট'-এর একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আইআইটি রূড়কির (IIT Roorkee) বিজ্ঞানীদের এক চমকপ্রদ সাফল্যের কথা। তাঁরা দেশি গরুর মূত্র থেকে তৈরি 'গোমূত্র অর্ক' নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। তাঁদের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি বেশ কার্যকরী অ্যান্টিভাইরাল হিসেবে কাজ করতে পারে। ল্যাবরেটরির কঠোর বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় এই প্রমাণ মেলায় এখন খোদ গবেষক দলই বেশ আশাবাদী।

শুধু ভাইরাসের ওষুধই নয়, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের মতো আরও অনেক কিছু খুঁজে বের করেছেন আইআইটি বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির (IIT-BHU) বিজ্ঞানীরা। তাঁরা পরীক্ষা করে দেখেছেন যে প্রাচীন পঞ্চগব্যকে (দুধ, দই, ঘি, গোবর ও গোমূত্র) প্রাকৃতিক ডিসইনফেক্ট্যান্ট বা জীবাণুনাশক হিসেবে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। আবার আইআইটির অন্য এক গবেষণায় দেখা গেছে, গোবরের মধ্যে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে যা ধাতুর ওপর একটা সুরক্ষাকবচ তৈরি করে মরচে পড়া আটকাতে সাহায্য করতে পারে। এমনকি বায়োগ্যাস বার্নার ও উন্নতমানের ইলেকট্রোড তৈরিতেও গোবরের ব্যবহার নিয়ে দারুণ সব তথ্য সামনে আসছে।

আয়ুর্বেদের হাজার বছরের পুরনো বিশ্বাসকে আধুনিক বিজ্ঞানের ল্যাবরেটরিতে এনে কড়া পরীক্ষার মুখে ফেলার এই যে চেষ্টা, তা এক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। গবেষকদের মতে, বিজ্ঞান মানে যেমন অন্ধ বিশ্বাস নয়, তেমনই প্রমাণের আগে সবকিছুকে স্রেফ কুসংস্কার বলে উড়িয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। ৯৮ কোটির এই সরকারি প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কতটা সার্থক হবে তা হয়তো সময়ই বলবে, তবে আইআইটি-র এই গবেষণাপত্রগুলো অন্তত এটুকু স্পষ্ট করে দিল যে, আমাদের চেনা-জানা অতি সাধারণ উপাদানের মধ্যেও লুকিয়ে থাকতে পারে আধুনিক প্রযুক্তির বড় বড় সমাধান।