আজকাল ওয়েবডেস্ক: পহেলগাঁওয়ের মর্মান্তিক জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্তিতে বুধবার নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে তিনি বলেন, “ওই নিরীহ প্রাণগুলি কখনও ভোলা যাবে না,” এবং শোকাহত পরিবারগুলির পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় লেখেন, “গত বছর এই দিনে পহেলগাঁওয়ের নৃশংস জঙ্গি হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের স্মরণ করছি। তাঁরা কখনও বিস্মৃত হবেন না। শোকাহত পরিবারগুলির প্রতিও আমার গভীর সমবেদনা রইল।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটি জাতি হিসেবে আমরা শোক ও সংকল্পে ঐক্যবদ্ধ। ভারত কখনও সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না। সন্ত্রাসবাদীদের নকশা কখনও সফল হবে না।”
Remembering the innocent lives lost in the gruesome Pahalgam terror attack on this day last year. They will never be forgotten. My thoughts are also with the bereaved families as they cope with this loss.
— Narendra Modi (@narendramodi)
As a nation, we stand united in grief and resolve. India will never bow to…Tweet by @narendramodi
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে জঙ্গিরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে, যাঁদের অধিকাংশই পর্যটক ছিলেন। এই ঘটনার জেরে গোটা দেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এখনও সেই শোক সামলে উঠতে পারেননি।
হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত ৭ মে অপারেশন সিন্দুর নামে একটি সামরিক অভিযান চালায়। এই অভিযানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয় বলে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রীর পোস্টের কয়েক মিনিট আগে ভারতীয় সেনাও এক্স-এ কড়া বার্তা দেয়। তারা জানায়, “ভারতের বিরুদ্ধে যে কোনও কাজের জবাব নিশ্চিত। ন্যায়বিচার হবেই, সবসময়।” বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেনার তরফে আরও বলা হয়, “মানবতার সীমা অতিক্রম হলে প্রতিক্রিয়া হয় দৃঢ় ও চূড়ান্ত। ভারত ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।”
এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন বর্ষপূর্তিকে ঘিরে পহেলগাঁওয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, নজরদারি বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে যাতে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই স্মরণসভায় রাজনৈতিক নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং নিহতদের পরিবার উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।
হামলায় নিহতদের স্মৃতিতে বাইসারন ভ্যালিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভও নির্মাণ করা হয়েছে। কালো মার্বেল দিয়ে তৈরি এই স্মারকে ২৬ জনের নাম খোদাই করা রয়েছে—২৫ জন পর্যটক এবং স্থানীয় পনিওয়ালা আদিল শাহ। লিডার নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিস্তম্ভ আজ দেশের কাছে এক বেদনাদায়ক স্মৃতি এবং একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক।
এই বর্ষপূর্তিতে গোটা দেশ আবারও একত্রিত হয়ে শোক প্রকাশ করছে, পাশাপাশি পুনরায় দৃঢ় সংকল্প করছে—সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কোনও আপস নয়।















