আজকাল ওয়েবডেস্ক: ডিউটি সেরে সবে বেরিয়েছিলেন। আচমকা একদল বাইক নিয়ে এসে ছেকে ধরল তরুণীকে। গোরক্ষপুর এমস-এ কর্মরত নাগাল্যান্ডের এক তরুণী চিকিৎসককে শ্লীলতাহানি। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে বর্ণবিদ্বেষী হেনস্থার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উত্তরপ্রদেশের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পলাতক আরও এক অভিযুক্ত। তার খোঁজে তল্লাশি চলছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত ৮ টা নাগাদ ওই তরুণী চিকিৎসক যখন মোহদ্দিপুরের একটি মল থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন, তখন থেকেই তিন যুবক তাঁর পিছু নেয়। অভিযোগ, প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ ওই চিকিৎসককে বাইকে করে তাড়া করে অভিযুক্তরা। সেই সময় তাঁর উত্তর-পূর্ব ভারতের জাতিগত পরিচয় নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য ও অশ্লীল গালিগালাজ করা হয় বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতা চিকিৎসক জানান, এমস-এর ২ নম্বর গেটের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরে ওই যুবকেরা। ভয় দেখানোর জন্য এক জন নিজের জামা খুলে ফেলে এবং অন্য জন তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে। তরুণী চিৎকার শুরু করলে এলাকা ছেড়ে পালায় অভিযুক্তরা। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ সুরজ গুপ্ত ও অমৃত বিশ্বকর্মা নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, তারা দেওরিয়া জেলার বাসিন্দা।

এই ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছে চিকিৎসক সংগঠন ‘নাফোর্ড’। তারা জানিয়েছে, নিজের কর্মক্ষেত্রের কাছেই এক জন মহিলা রোগ বিশেষজ্ঞকে যে ভাবে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। 

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মেঘালয়ের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘উত্তর-পূর্ব ভারতের মেয়েদের সঙ্গে এই বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণ কোনও সভ্য দেশ মেনে নিতে পারে না।’’ প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।