আজকাল ওয়েবডেস্ক: ব্যস্ত সকালে একটা বড় ক্লায়েন্ট মিটিংয়ের চাপ যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা মুম্বাইয়ের এক স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা হারে হারে টের পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চূড়ান্ত উত্তেজনার মুহূর্তেই ঘটে গেল এক অদ্ভুত ঘটনা, যা শুধু তাঁর দিনটাই বদলে দিল না, বরং লাখো মানুষের মন ছুঁয়ে গেল।

হিংলিশ  (Hinglish) নামের একটি সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও শুভম গুণে সম্প্রতি তাঁর লিঙ্কডইন প্রোফাইলে এই মন ভালো করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। সেদিন সকাল সাতটায় এক আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সঙ্গে তাঁর জরুরি মিটিং ছিল। ওই ক্লায়েন্ট মাত্র একদিনের জন্যই মুম্বাইয়ে এসেছিলেন, তাই শুভমের কাছে সুযোগ হাতছাড়া করার কোনও  উপায় ছিল না। তাড়াহুড়ো করে মিটিংয়ের জায়গায় পৌঁছানোর পর শুভম তাঁর অটো ভাড়া মেটাতে গুগল পে অ্যাপটি খোলেন। আসল ভাড়া হয়েছিল মাত্র ১৫৬ টাকা। কিন্তু টেনশন আর তাড়াহুড়োয় শুভম খেয়ালই করেননি যে তিনি ১৫৬ টাকার জায়গায় ১৫,৬৮২ টাকা টাইপ করে ফেলেছেন! স্ক্রিনের দিকে না তাকিয়েই পেমেন্ট সম্পূর্ণ করে তিনি সোজা দৌড় লাগান বিল্ডিংয়ের ভেতর।

ভেতরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। শুভমের কথায়, মিটিংটি মোটেও ভালো হয়নি। চরম হতাশা আর খিটখিটে মেজাজ নিয়ে যখন তিনি বিল্ডিং থেকে বাইরে বেরোলেন, তখন তিনি ভাবতেও পারেননি বাইরে তাঁর জন্য কী অপেক্ষা করছে।

বাইরে আসতেই শুভম দেখেন, অটোরিকশা চালক আলতাফ তখনও ঠিক সেই জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে শুভমকে নামিয়েছিলেন। শুভমকে দেখেই আলতাফ এগিয়ে আসেন এবং জানান যে পেমেন্টে একটা বড় গড়মিল হয়েছে। আলতাফ অত্যন্ত সততার সঙ্গে জানান যে তাঁর অ্যাকাউন্টে অনেক বেশি টাকা চলে এসেছে এবং তিনি তখনই শুভমকে পুরো টাকাটা ফেরত দিয়ে দেন। নিজের সততার জন্য কোনও  বাহবা বা পুরস্কারের আশাও করেননি তিনি। এমনকি শুভম যখন আলতাফকে তাঁর আসল ভাড়া ১৫৬ টাকা অন্তত রেখে দিতে বলেন, আলতাফ সেটাও নিতে অস্বীকার করেন। শুভমের খারাপ সময়টা বুঝতে পেরে আলতাফ শুধু বলেন, "স্যার, দিনটা আমাদের দুজনের জন্যই কেবল শুরু হল।"

অবশ্য গল্পটা এখানেই শেষ হয়নি। এই ঘটনার ঠিক সাতদিন পর সেই আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট নিজে থেকে শুভমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। শুভম জানিয়েছেন, এই সুখবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর মন চলে গিয়েছিল সেই সাত সকালের ফুটপাতে, যেখানে এক অটোচালক তাঁর চরম বিপদের দিনে কোনো স্বার্থ ছাড়াই পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে কৃতজ্ঞতার নিদর্শন হিসেবে শুভম আলতাফকে ৫০০ টাকা পাঠান, যার মধ্যে অটোর আসল ভাড়াও শামিল ছিল।

লিঙ্কডইন-এ এই পোস্টটি আসার পর থেকেই মানুষের মন্তব্যের বন্যা বয়ে গেছে। অনেকেই বলছেন, ক্লায়েন্ট ফিরে আসার চেয়েও আলতাফের এই সততা তাঁদের বেশি অনুপ্রাণিত করেছে। কারণ যখন কেউ না দেখেও সততা বজায় রাখে, তখনই মানুষের আসল চরিত্র চেনা যায়। ব্যস্ত শহরের এই নিঃশব্দ সততার গল্প সামাজিক মাধ্যমে বহু মানুষের মানুষের মনে নতুন করে ভরসা জুগিয়েছে।