আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আন্দোলনে উত্তাল হয়েছে রাজধানী। আর সেই আঁচ এসে পড়েছে সংসদের উভয় কক্ষে। বুধবার সংসদের বাদল অধিবেশন চলাকালীন সংসদের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়। লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে কিরেন রিজিজু জানিয়ে দেন, সরকার এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন-উত্তর ও আলোচনায় রাজি। কিন্তু অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয় সংসদ চত্ত্বরে। বিরোধী সাংসদরা কালো জামা পরে হাজির হন অধিবেশনে। সংসদ কক্ষের বাইরে তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ শুরু করেন। এরপর অধিবেশ শুরু হলে সংসদের ঘরের মধ্যেও তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।
লোকসভায় সরকারের পক্ষ থেকে কিরেন রিজিজু বলেন, 'নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে আলোচনায় রাজি রয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সংসদের নিয়ম মেনে আলোচনার নির্দিষ্ট সময় ও পদ্ধতি নির্ধারিত হোক, তারপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হোক।' কিন্তু কংগ্রেসের তরফ থেকে কেসি বেণুগোপাল তারপরেই বলতে থাকেন, 'যেভাবে পড়ুয়াদের মারা হয়েছে, যেভাবে আন্দোলন দমনের চেষ্টা হচ্ছে, সেটা ঠিক নয়।' এরপর সংসদের ওয়ালে নেমে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন, তাঁরা দাবি করে বলতে থাকেন, যতক্ষণ না শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত এই নিয়ো কোনও আলোচনা চলতে পারে না। এরপরেই সংসদের অধক্ষ্য ওম বিড়লা দুপুর় দুটো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি করে দেন। কিন্তু তারপরেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। সংসদে ক্রমাগত বিরোধীরা তীব্র স্লোগান ও প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বলেন, 'এটি কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি বা অন্য কোনও দলের বিষয় নয়, এটি আসলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রশ্ন। যেভাবে ছাত্রদের প্রতি আচরণ করা হয়েছে, সেটা নিয়ে আলোচনা করা দরকার। আমরা বাধ্য হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করেছি। আপনি শুনলে আমাদের আর বলতে হত না।' এর পর দুটোর পর ফের অধিবেশন শুরু হয়, কিন্তু তারপরেও আলোচনা এগোয়নি। কারণ, নিট নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ করতে থাকেন তাঁরা। এরপর ২২ জুলাই, অর্থাৎ বুধবার সকাল পর্যন্ত অধিবেশ স্থগিত করে দেওয়া হয়।
রাজ্যসভার কেন্দ্রীয় শাসক দলের পক্ষ থেকে জেপি নাড্ডা ক্রমাগত বলতে থাকেন, নিট প্রশ্ন ফাঁসের বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য রাজি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার সবসময় আলোচনার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। বিরোধীদের তরফ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, যতক্ষণ না পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আলোচনার কোনও প্রশ্ন নেই। স্বাভাবিক ভাবে আলোচনার কোনও পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত সংসদে তৈরি হয়নি।দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে সমানতালে সংসদীয় ভবনে বিরোধীদের বিক্ষোভে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে সংসদে।
















