আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'টক্সিক' সম্পর্ক। দিনের পর দিন হেনস্থা করতেন প্রেমিক। এর জেরেই চরম পদক্ষেপ করলেন এক ডাক্তারি পড়ুয়া। ঘর থেকে উদ্ধার হল তাঁর নিথর দেহ। কেন আত্মহত্যা করলেন, তাও লিখে গেছেন কয়েক পাতার সুইসাইড নোটে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ওই তরুণী মুম্বইয়ে নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হয়েছেন। ডেন্টাল বিভাগের স্নাতকোত্তরের ছাত্রী ছিলেন তিনি। প্রেমিকের মানসিক হেনস্থার জেরেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ করেছেন বলে জানা গেছে। ছ'পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তরুণীর নাম, স্তুতি সোনওয়ানে। সেখানেই ওই ডাক্তারি পড়ুয়া জানিয়েছেন, তাঁর প্রেমিকের সন্দেহ ছিল, তিনি প্রতারণা করছেন। এই সন্দেহের বশেই তাঁর চরিত্র নিয়ে কটুক্তি করতেন। ক্রমেই সম্পর্কটি 'টক্সিক' হয়ে ওঠে। সুইসাইড নোটে ওই ছাত্রী আরও লিখেছেন, তাঁর সম্পর্কের এই জটিলতার কথা ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও জানতেন। তাঁরা মজা করে বলতেন, 'একদিন তোকে ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা হবে।'
পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন স্তুতি। গতকাল সকাল ১১টা পর্যন্ত তাঁর ঘরের দরজা বন্ধ দেখেই পরিবারের সন্দেহ হয়। দরজা খুলতেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করে পরিবার। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনার পরেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। ডাক্তারি পড়ুয়ার প্রেমিককে জেরার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের শেষে দিল্লির গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতাল থেকে এক অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই কলেজের এক এমবিবিএস পড়ুয়াকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ওই ডাক্তারি পড়ুয়া পুলিশে অভিযোগ জানান, দিলশাদ গার্ডেনের গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালের এক অধ্যাপক দিনের পর দিন যৌন হেনস্থা করেন তাঁকে।
এর আগে একের পর এক ছাত্রীকে যৌন হেনস্থার উঠেছিল এই রাজ্যেই। কখনও হোয়াটসঅ্যাপে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অশ্লীল মেসেজ। কখনও প্রকাশ্যে গালিগালাজ। কখনও আবার জোর করে সঙ্গম। লাগাতার শ্লীলতাহানির শিকার হয়ে অবশেষে থানায় ছুটলেন ১৭ জন ছাত্রী। শহরের জনপ্রিয় আশ্রমের প্রধানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন তাঁরা।
খাস রাজধানীতে এক জনপ্রিয় আশ্রমের প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন একাধিক মহিলা। দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ এলাকার জনপ্রিয় আশ্রমের ডিরেক্টর এই 'বাবা'। তাঁর বিরুদ্ধে কমপক্ষে ১৭ জন মহিলা শ্লীলতাহানি ও যৌন হেনস্থার অভিযোগ জানিয়েছিলেন।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতী ওরফে পার্থসারথি শ্রী সারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্টের প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তরুণীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। ওই ইনস্টিটিউটে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারের তরুণীরা ভর্তি হয়েছিলেন পোস্ট গ্রাজুয়েটের জন্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩২ জন তরুণী ইতিমধ্যেই অভিযোগ জানিয়েছেন পুলিশের কাছে। যাদের মধ্যে ১৭ জন তরুণীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তরুণীদের অভিযোগ, স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতী প্রায়ই অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন। কটুক্তি করতেন তরুণীদের। নিত্যদিন অশ্লীল ভিডিও ও মেসেজ পাঠাতেন ফোনে। পাশাপাশি শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার জন্যেও জোরাজুরি করতেন।
তরুণীদের অভিযোগ, একাধিকবার অভিযুক্ত পার্থসারথির বিরুদ্ধে ইনস্টিটিউটের মহিলা শিক্ষা কর্মীদের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরাও স্বামী চৈতন্যনন্দ সরস্বতীর দাবি মেনে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। অবশেষে থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় ছাত্রীরা। গত সপ্তাহেই আগ্রা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
