আজকাল ওয়েবডেস্ক: নর্মদার জলে ডুবে মৃত্যু মা ও ছেলের। মধ্যপ্রদেশের বরগি বাঁধের কাছে পর্যটক-বোঝাই নৌকা উল্টে মৃত্যু হল মা ও তাঁর চার বছরের শিশুসন্তানের। শুক্রবার সকালে তাঁদের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। দেখা গিয়েছে মৃত্যুর  আগমুহূর্ত পর্যন্ত সন্তানকে বাঁচাতে তাকে বুকের মাঝে জাপটে ধরে রেখেছিলেন মা।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে সপরিবারে নর্মদায় বেড়াতে এসেছিলেন তাঁরা। চার জনের পরিবার। বাবা ও মেয়ে কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচলেও, মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন।

মুহূর্তের ঝড়ে তছনছ হয়ে গেল আরও এক পর্যটক পরিবার। সৈয়দ রিয়াজ হুসেন নামে এক ব্যক্তি সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, চোখের নিমেষে তাঁর স্ত্রী, শাশুড়ি ও নাতি উত্তাল ঢেউয়ে তলিয়ে গিয়েছেন।

রিয়াজের কথায়, “হঠাৎ আবহাওয়া বিগড়ে গিয়ে প্রবল ঝড় শুরু হল। টাল সামলাতে না পেরে নৌকায় হু হু করে জল ঢুকতে শুরু করে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই চারদিকে হাহাকার পড়ে গিয়েছিল। নৌকাটি ডুবছে দেখে সবাই বাঁচার জন্য চিৎকার করছিল। আমিও ডুবছিলাম, ভেবেছিলাম আর ফিরব না।”

মৃত্যুর মুখ থেকে রিয়াজের এভাবে ফিরে আসাকে ‘অলৌকিক’ বলছেন অনেকেই। জলের তলায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ দু’ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। শুধু মাথাটুকু জলের উপরে থাকায় শ্বাস নিতে পারছিলেন। রিয়াজ বলেন, “জলে আটকে থাকা অবস্থায় দেখছিলাম একের পর এক মৃতদেহ আমার পাশ দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীরা আমায় দেখতে পান।”

প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি। এখনও নিখোঁজ পাঁচ শিশু-সহ ৯ জন পর্যটক। নিখোঁজদের তালিকায় রিয়াজের পরিজনেরাও রয়েছেন।

বর্তমানে পুলিশ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে এই ঘটনায় বিতর্ক ক্রুজ চালককে নিয়ে। মহেশ প্যাটেল নামে ওই চালকের কাছে লাইফ জ্যাকেট থাকায় তিনি সহজেই রক্ষা পেয়েছেন, অথচ সাধারণ পর্যটকদের ভাগ্যে জোটেনি সেই লাইফ জ্যাকেট।