আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দেশজুড়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি কার্যত থমকে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, মধ্য ও পশ্চিম ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রায় মেঘশূন্য, যা বর্ষার দুর্বল অবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।


স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং কর্নাটকের অভ্যন্তরীণ বিস্তীর্ণ এলাকা প্রায় সম্পূর্ণ মেঘমুক্ত। সাধারণত জুন মাসে এই সময়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে দেশের বড় অংশে ঘন মেঘের বিস্তার দেখা যায়। কিন্তু এবার সেই চিত্র একেবারেই ভিন্ন।


বর্তমানে বর্ষাজনিত সংগঠিত মেঘের অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং নিরক্ষীয় ভারত মহাসাগরের উপর সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দেশের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।


পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪ জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক বৃষ্টির পরিমাণ হওয়ার কথা ছিল ৬৫.৯ মিলিমিটার। ফলে সারাদেশে বৃষ্টির ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশ।


সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির ঘাটতি দেখা গেছে গুজরাটে, যেখানে স্বাভাবিকের তুলনায় ৯৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। মহারাষ্ট্রে ঘাটতি ৭৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৮৫ শতাংশ, ঝাড়খণ্ডে ৬৬ শতাংশ এবং ছত্তীসগঢ়ে ৬৫ শতাংশ। এছাড়াও কর্নাটক, তেলেঙ্গানা, ওডিশা, বিহার এবং অসমেও স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।


আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ হল আরব সাগর থেকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারা। পাশাপাশি, বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের বাতাসের অনুকূল অবস্থার অভাবে মধ্য ও পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিবাহী মেঘের সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে গত এক সপ্তাহ ধরে মৌসুমি বায়ুর উত্তরমুখী অগ্রগতি কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে।


স্যাটেলাইট চিত্রে আরও দেখা গেছে, মূল ভূখণ্ডে মেঘের ঘাটতি থাকলেও পশ্চিম আরব সাগরে একটি সুস্পষ্ট ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের আকাশে ঘন মেঘের আধিক্য রয়েছে। আর্দ্রতার এই অসম বণ্টনের কারণেই বর্ষা সারা দেশে সমানভাবে বিস্তার লাভ করতে পারছে না।


এই পরিস্থিতি কৃষিক্ষেত্রেও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। জুন মাসই হল খরিফ মরশুমের চাষাবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। ধান, সয়াবিন, তুলা এবং ডালশস্যের বপন এই সময়েই শুরু হয়। যদি আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টির ঘাটতি অব্যাহত থাকে, তাহলে চাষের সময়সূচি, মাটির আর্দ্রতা এবং ফসল উৎপাদনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

 


তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২১ জুনের পর থেকে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্রতার প্রবাহ বাড়তে পারে, যার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু আবারও গতি ফিরে পেতে পারে। তবুও জুন মাসের প্রায় অর্ধেক সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন দেশে বৃষ্টির ঘাটতি ৪০ শতাংশ, তখন আবহাওয়াবিদদের পাশাপাশি কৃষি ও অর্থনৈতিক মহলেও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।