আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চড়া দামের মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ করল মোদি সরকার। শুক্রবার পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর লিটার প্রতি ১০ টাকা করে বিশেষ 'অতিরিক্ত আবগারি কর' (স্পেশাল অ্যাডিশনাল এক্সাইজ ডিউটি) কমানোর ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সরকারি এই সিদ্ধান্তের সুফল সাধারণ মানুষের পকেটে এখনই পৌঁছচ্ছে না। অর্থাৎ, বাজারে তেলের দাম আপাতত কমছে না।
সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস-এর চেয়ারম্যান বিবেক চতুর্বেদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। এর ফলে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি যে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে, সেই লোকসান সামাল দিতেই সরকার এই কর কমাল। এখন থেকে প্রতি ১৫ দিন অন্তর জ্বালানি তেলের এই দর পর্যালোচনা করবে কেন্দ্র।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে হামলার পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন ছড়িয়েছে। এর বড় প্রভাব পড়েছে ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর। উল্লেখ্য, এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ তেলের কারবার চলে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৮ ডলার, শুক্রবার তা ১১০ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
ভারত তার মোট তেলের চাহিদার প্রায় অর্ধেকটাই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। শুধু তাই নয়, রান্নার গ্যাস এবং এলএনজি-র জন্যেও কাতার ও ইরানের ওপর বড় নির্ভরতা রয়েছে দিল্লির। স্বাভাবিকভাবেই দেশে জ্বালানি সঙ্কটের একটা চোরা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তবে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এদিন দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন-
দেশে আগামী ৬০ দিনের তেল মজুত আছে।
রান্নার গ্যাসের জোগান রয়েছে অন্তত ৩০ দিনের।
তেল শোধনাগারগুলি পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে।
সঙ্কটের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার আর্জি জানিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস ও নতুন চুক্তির পথে হাঁটছে ভারত।
















