আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাহাড়ের মাথায় তুষারপাত। আচমকা তুষারপাতে বিপর্যস্ত সিকিম। মঙ্গলবার সোমগো (ছাঙ্গু) লেকের কাছে শেরথাং এলাকায় প্রবল তুষারপাতের জেরে আটকা পড়েন দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার পর্যটক। পর্যটন দপ্তর সূত্রের খবর, ১৫ মাইল এলাকা থেকে সোমগোর মাঝে বরফের স্তুপে আটকে পড়ে ৫৪১টি পর্যটকবাহী গাড়ি।
জানা গিয়েছে, সিকিমের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে সব মিলিয়ে প্রায় ২,৭৩৬ জন পর্যটক কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে সিকিম প্রশাসন।
পর্যটন দপ্তর, পুলিশ ও বিআরও-এর জওয়ানরা স্থানীয় চালক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করেই পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ চলে। বিকেলের মধ্যেই আটকে পড়া সমস্ত পর্যটক ও গাড়িগুলিকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় বিপত্তি ঘটেনি।
এই সাফল্যের জন্য সিকিম পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় চালক সংগঠন- সকলকেই ধন্যবাদ জানিয়েছে পর্যটন দপ্তর। তবে আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পর্যটক ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলির জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
প্রশাসনের পরামর্শ, পাহাড়ে ঘোরার সময় আবহাওয়ার খবরের দিকে বিশেষ নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, তুষারপাতের সময় পিচ্ছিল রাস্তায় দুর্ঘটনা রুখতে গাড়ির চাকায় 'স্নো-চেইন' ব্যবহার করা আবশ্যিক।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল মরশুমের প্রথম তুষারপাত। সাদা চাদরে ঢেকে গেল উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু। ভোর হওয়ার পর থেকেই হালকা তুষারপাত শুরু হয়, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা পাহাড়ি অঞ্চলকে এক মনোরম শীতের আবহে মুড়ে দেয়।
তুষারপাতের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করে এলাকায়। অনেকেই শ্বেতশুভ্র প্রকৃতিকে উপভোগ করতে বেরিয়ে পড়েন। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আবার কেউ মেতে ওঠেন তুষার ছোড়াছুড়ির খেলায়। কেউ বা আবার নিছক দাঁড়িয়েই প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন।
হিমালয়ান হসপিট্যালিটি অ্যান্ড ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক-এর যুগ্ম সম্পাদক তন্ময় গোস্বামী জানান, মরশুমের প্রথম তুষারপাত পর্যটন শিল্পে নতুন করে গতি আনবে। হোটেল ও হোমস্টেগুলিতে বুকিংয়ের চাপও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে আনন্দের পাশাপাশি প্রশাসনের তরফে পর্যটকদের সতর্কতার সঙ্গে পাহাড়ে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরে সান্দাকফুর এই প্রথম তুষারপাত শীতের আমেজকে আরও জোরালো করে তুলল উত্তরবঙ্গে।
