আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিচ্ছেদের পরেই ফোনে ব্লক। যোগাযোগের বিন্দুমাত্র উপায় নেই। রাগের মাথায় প্রাক্তন প্রেমিকাকে খুনের ছক কষেছিলেন যুবক। পরিকল্পনা ছিল, একসঙ্গেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন। কিন্তু শেষমেশ যুবকেরই মর্মান্তিক পরিণতি। বরাতজোরে রক্ষা পেলেন সেই তরুণী। 

 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের তুমাকুরুতে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সিরা তালুকে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়কে একটি গাড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। গাড়িতেই জীবন্ত দগ্ধ হন ৩০ বছরের নগেন্দ্র নামের এক যুবক। ওই গাড়িতেই ছিলেন এক তরুণী ও চালক। তাঁরা আহত অবস্থায় বর্তমানে তুমাকুরু জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

 

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই তরুণী পেশায় বেঙ্গালুরুতর একজন ওটি টেকনিশিয়ান। নগেন্দ্রর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। দিন কয়েক আগেই বিচ্ছেদ হয়। এরপরই বাদানুবাদের জেরে নগেন্দ্রর ফোন নম্বর ব্লক করে দেন তরুণী। যা ঘিরে অশান্তি আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছয়। 

 

শনিবার তরুণীর ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ঝামেলা শুরু করেন নগেন্দ্র। কথা কাটাকাটিও হয়। এই ঝামেলার পরেই তরুণীকে টেনে হিঁচড়ে একটি গাড়িতে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে চলে যান। এরপর তরুণীর পরিবার থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে। নগেন্দ্রর পরিকল্পনা ছিল, অঙ্কোলার দিকে চলে যাবেন তাঁরা। 

 

গাড়িতে ওঠার পর থেকেই প্রাক্তন প্রেমিকাকে খুনের হুমকি দিতে শুরু করেন নগেন্দ্র। তরুণীকে খুন করে আত্মঘাতী হবেন বলেও হুমকি দিয়েছিলেন। পুলিশের অনুমান, আগে থেকেই গাড়িতে বিস্ফোরক রেখে দিয়েছিলেন নগেন্দ্র। এমনকী সেটা প্রাক্তন প্রেমিকাকেও দেখিয়েছিলেন। 

 

ঝামেলার মাঝেই চলন্ত গাড়িতে তরুণীর ওপর ধারালো ছুরি নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন নগেন্দ্র। তড়িঘড়ি করে গাড়িটি থামিয়ে দেন চালক। নিমেষের মধ্যে গাড়ির চালক ও তরুণী গাড়ি থেকে ঝাঁপিয়ে বাইরে বেরিয়ে যান। তখনই বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। গাড়ির ভিতরে আটকে পড়েই জীবন্ত দগ্ধ হন নগেন্দ্র। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই বিস্ফোরণের পরেই ওই জাতীয় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। এক কিলোমিটার লম্বা যানজটে আটকে পড়েন সাধারণ মানুষ।