আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোপালের রাজপথে দিনের আলোয় শিউরে ওঠা কাণ্ড। এক যুবককে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতুড়ি ও সাবল দিয়ে পিটিয়ে খুনের চেষ্টার ঘটনায় হুলুস্থুল চারিদিকে। অভিযোগ, পথচারীরা যখন মোবাইলে ভিডিও তুলতে ব্যস্ত, তখন জনসমক্ষেই ওই যুবককে নৃশংসভাবে মারধর করে পালিয়ে যায় একদল দুষ্কৃতী।
পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত যুবকের নাম কুলদীপ সিং। রবিবার বেলা ১১টা নাগাদ মাঝরাস্তায় দুটি গাড়ি দিয়ে কুলদীপের পথ আটকায় দুষ্কৃতীরা। এরপর তাঁকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে শুরু হয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, যুবকের হাত-পা লক্ষ্য করে বারবার হাতুড়ি দিয়ে মারা হয়। এমনকী তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও হামলা থামেনি। যাওয়ার আগে তাঁর গাড়িটিও ভাঙচুর করে পালায় অভিযুক্তরা।
সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, সবাই যখন দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন কেবল এক তরুণী সাহস করে দুষ্কৃতীদের আটকানোর চেষ্টা করেন। জানা গিয়েছে, বর্তমানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন কুলদীপ।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, কুলদীপের বিরুদ্ধে খুন ও তোলাবাজি-সহ একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। সম্প্রতি তিনি জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছিলেন। তাঁর বাগদত্তা ভোপালের এক দন্তচিকিৎসক, যাঁর সঙ্গে দেখা করতেই তিনি শহরে এসেছিলেন। পুরনো কোনও শত্রুতার জেরেই এই হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, রাস্তার ওপর দিয়ে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এক প্রৌঢ়কে। তাঁর অপরাধ, পথ আটকে টাকা চেয়েও পায়নি দুষ্কৃতীরা। মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলায় এই শিউরে ওঠা নৃশংসতার শিকার হলেন ৬০ বছরের লক্ষ্মণ প্রজাপতি। বর্তমানে হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে সেমারিয়া গ্রামে নিজের সাইকেলে চেপে যাচ্ছিলেন লক্ষ্মণবাবু। পথে তিন যুবক তাঁর গতিরোধ করে টাকা চায়। তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করলে শুরু হয় চরম অত্যাচার। অভিযোগ, তাঁকে গামছা দিয়ে একটি বাইকের পিছনে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর চলন্ত বাইক ছুটিয়ে বেশ কয়েক মিটার রাস্তা টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। ঘর্ষণের ফলে তাঁর শরীরের অনেকটা অংশের চামড়া উঠে গিয়েছে।
রবিবার সকালে এই ঘটনার একটি ভিডিও নেটমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে সাধারণ মানুষ। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবিতে রেওয়া-সেমারিয়া রাস্তা অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রীতিমত তলানিতে ঠেকেছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তদন্তে নামে রেওয়া পুলিশ। বিকাশ কপিশ নামে এক তদন্তকারী অফিসার জানান, কুন্নু সাকেত নামে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুই সঙ্গী এখনও পলাতক। পুলিশি বয়ানে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটি ছিনতাইয়ের ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবে কেন এমন নৃশংসতা, তা খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তকে জেরা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রৌঢ়ের অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। পুলিশের দাবি, চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। এই নির্মম ঘটনার জেরে বিজেপি-শাসিত মধ্যপ্রদেশে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল।
