আজকাল ওয়েবডেস্ক: একের পর এক ঘটনা। দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশাই যেন বারবার প্রকাশ্যে আসছে। এবার পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বল পরিকাঠামোর আরও এক ঘটনার খবর সামনে এসেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর, উত্তরপ্রদেশের কানপুরে বিএড-এর প্রবেশিকা পরীক্ষা ইউপি বিএড জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার দিন একটি পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছে  ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গিয়েছে।  পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে পুরনো কংক্রিটের স্ল্যাব ভেঙে ড্রেনে পড়ে যান প্রায় ২৫ জন পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। 


স্থানীয় সূত্রের খবর, গত রবিবার অর্থাৎ ৩১ মে কানপুরের এইচ.এন. মিশ্র পিজি কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। পরীক্ষা শুরু হওয়ার ঠিক আগে পরীক্ষার্থীদের জানানো হয় যে, তাঁদের আধার কার্ডের ফোটোকপি বা জেরক্স জমা দিতে হবে। হঠাৎ এই নির্দেশের আসায় পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকেরা হন্যে হয়ে কাছের একটি জেরক্সের দোকানে ভিড় জমাতে শুরু করেন। সেই দোকানের সামনেই একটি পুরোনো ড্রেনের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাব পাতা ছিল। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপ সামলাতে না পেরে আচমকাই সেই স্ল্যাবটি ভেঙে পড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ২৫ জন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক নোংরা ড্রেনের ভেতর পড়ে যান।


জানা গিয়েছে, ওই দুর্ঘটনায় চারজন পরীক্ষার্থী গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন। পরীক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও মূল্যবান জিনিসপত্রও নষ্ট হয়ে গিয়েছে। জখম এক অভিভাবক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

সংবাদসংস্থা পিটিআইকে পুলিশ কমিশনার রঘুবীর লাল বলেন,"নগর নিগম বাজার এলাকার একটি দোকানে পরীক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় নথির জেরক্স করতে গিয়েছিলেন। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণেই পুরনো স্ল্যাবটি ভেঙে পড়ে। কয়েকজন সামান্য চোট পেলেও বড় কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।"

পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিপর্যয়ের পরেও পরীক্ষার্থীদের উদ্ধার করে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও পরিকাঠামোর কঙ্কালসার দশা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাধারণ মানুষ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কানপুরের এই দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক তুঙ্গে। গত ১২ মে দেশজুড়ে আয়োজিত ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিটের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা হওয়ার ১০ দিনের মাথায় বাতিল করতে হয়। এর পরেই সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনের (সিবিএসই) নতুন অনলাইন মার্কিং সিস্টেমের গলদ ধরা পড়ে। খাতা দেখা এবং নম্বর দেওয়ায় ব্যাপক অসঙ্গতির অভিযোগ তোলেন পড়ুয়ারা। আবার কিছুদিন পর কানপুরেই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণেই কুয়েট ইউজি পরীক্ষা এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। যার ফলে অনেক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা না দিয়েই কেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। এই সমস্ত ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কানপুরের এই দুর্ঘটনা ভারতের পরীক্ষা পরিচালনা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।