আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়েতে মদের যোগান ছিলনা। তাই এলাকাবাসীর ক্ষোভ আছড়ে পড়ল বর-বধূর উপর। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র জেলায়। নবদম্পতির পাশাপাশি ক্ষোভের আঁচ এসে পড়েছে তাঁদের পরিবারের মানুষজনদের উপরেও।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্র অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে অরন থানার অন্তর্গত পাটাই গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। ছেলের বাড়ির কিছু মানুষও গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, শুধু ক্ষোভ প্রকাশই নয়, প্রতিবেশীরা বাড়ি ভাঙচুর করেছেন, এমনকী ঘরের নানান জিনিসের সঙ্গে টাকাপয়সাও চুরি করা হয়েছে।
বিয়ে ছিল মহেশ যাতবের। জানা গিয়েছে, বহু বছরের প্রেম। যখন তিনি বিয়ের মন্ডপে কিছু নিয়ম পালনে ব্যাস্ত, তখনই প্রতিবেশীরা দাবি করেন বিয়ের আসরে তাঁদের মদ খেতে দিতে হবে। হবু বর তখন মদের যোগান দিতে অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, বিয়ে একটি 'পবিত্র' অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠানে তিনি কোনও মতেই মদের ব্যবস্থা করবেন না।
তিনি অনুরোধ করেন যাতে বিয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। বরং আগুনে যেন 'ঘৃতাহুতি' পড়ল। তারপরেই প্রতিবেশীরা চড়াও হন। ভাঙচুর করেন। ঘরের নানান জিনিসের পাশাপাশি চুরি করেন টাকাপয়সাও।
হবু বরের মা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বিয়ের আচারে তখন তাঁর ছেলে ব্যাস্ত। অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রিতেরা আসছেন। খাওয়া দাওয়া শুরু হয়েছে। বাড়ির লোকেরা অতিথি আপ্যায়নে ব্যাস্ত। তখন ধীরে ধীরে প্রতিবেশীরা আসতে শুরু করেন। প্রথমে কিছু না ঘটলেও ধীরে ধীরে একটা চাপা উত্তেজনা শুরু হয়। তারপরই তাঁরা দাবি করেন মদের ব্যবস্থা করতে হবে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যায় যখন হবু বর সেই দাবি মানতে নারাজ হন। তারপরেই তাঁরা চড়াও হন বর-বধূর উপরে।
পরে বরের মা আটকাতে এলে তাঁর গায়েও হাত তোলা হয়। বাড়ির মানুষেরা ঝামেলা সামাল দিতে আসলে তাঁরাও গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে ভর্তি হন স্থানীয় হাসপাতালে। আহত হন বরের বাবাও। তবে এখন তাঁরা আপাতত সুস্থ বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশি তদন্ত জারি রয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। দ্রুত তাদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি করেছেন নবদম্পতির বাড়ির লোকজন। যদিও এখনও একজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়নি।















